লেখক-কবি ও সাংবাদিক ফরিদা আখতার খানের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী

জিনিউজবিডি২৪ ডেস্ক ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
লেখক-কবি ও সাংবাদিক ফরিদা আখতার খানের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী

লেখক, কবি ও সাংবাদিক ফরিদা আখতার খানের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী ২০ জুলাই। ২০০৮ সালের এই দিনে মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন।

মানিকগঞ্জের চারিগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ও সাংস্কৃতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা আখতার খান। তার বাবা ছিলেন বিশিষ্ট আলেম মওলানা গোলাম রাজ্জাক খান এবং চাচা ছিলেন কবি ও শিশু সাহিত্যিক খান মোহাম্মদ মইনুদ্দিন। তার ভাই সিদ্দিকুর রহমান খান অলি (সিদ্দিক মাস্টার) ছিলেন একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ঢাকার অদূরে নবাবগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক ছিলেন। ১৯৭২ সালের ১২ নভেম্বর কর্মস্থলে আততায়ীর গুলিতে তিনি নিহত হন।

বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী ফরিদা আখতার খানের সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি হয় সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকার মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি দৈনিক নব অভিযান, রূপালী, লাল সবুজ ও মুক্তকণ্ঠ পত্রিকার ফিচার বিভাগে কাজ করেন। এছাড়া তিনি সাপ্তাহিক বিচিত্রা, পূর্বাণী, পাক্ষিক যোগাযোগ বার্তাসহ বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন।

পেশাগত জীবনে তিনি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, অনুপ্রাস, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র, সাব-এডিটরস কাউন্সিল ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন। তিনি বার্তা সংস্থা ইউএনবির সিনিয়র সাব-এডিটর এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের সংবাদ বিভাগেও দায়িত্ব পালন করেন। তার সর্বশেষ কর্মস্থল ছিল দৈনিক ডেসটিনি।

কাব্য, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতায় ব্যস্ত থাকার পাশাপাশি পরিবারেও তিনি পালন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই আততায়ীর হাতে ভাই সিদ্দিকুর রহমান খানের নিহত হওয়া এবং তার মাত্র দুই মাস আগে বাবার মৃত্যু পরিবারকে চরম সংকটে ফেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে মা ও ছোট দুই ভাই-বোনকে আগলে রাখার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন ফরিদা আখতার খান। এ কারণে তিনি জীবনে বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি।

ফরিদা আখতার খানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তার ছোট বোন দিলরুবা খান এবং ভাই শাহেদুর রহমান খান ইমরোজ। তারা বলেছেন, সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় তার অবদান এবং পরিবারের প্রতি তার আত্মত্যাগ চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Ads