সাতক্ষীরা ও শ্যামনগরে ভিডিও বিতর্কে উত্তাল: এমপি নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ

reporter
গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান খুলনা ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা ও শ্যামনগরে ভিডিও বিতর্কে উত্তাল: এমপি নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে জেলার শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে তার পদত্যাগের দাবি জানানো হয়।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রতীকী কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।

আজ বুধবার ২২ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলা সদরে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে গাজী নজরুল ইসলামের ছবি ও প্রতীকী ঝাড়ু দেখা যায়। এ সময় তারা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন।

এর মধ্যে ছিল, ‘ছি ছি নজরুল, লজ্জায় বাঁচি না’, ‘হই হই রই রই, বট বাহিনী গেলি কই’, ‘শ্যামনগরে হবে না, বট বাহিনীর ঠিকানা’ সহ বিভিন্ন স্লোগান।

এ সময় বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

তারা অভিযোগ করেন, ভিডিওটি প্রকাশের পর প্রথমে এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরে সংশ্লিষ্ট নারীকে সংসদ সদস্যের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য ও বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

সমাবেশ থেকে বক্তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেন এবং বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, বিতর্কিত ঘটনাটি নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা প্রয়োজন। অন্যথায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

মিছিলে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা কয়েকজন বলেন, আমাদের কাছ থেকে ভোট নিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আমরা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চাই।

সমাবেশে পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম আমজাদ বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মানুষের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ পরিবর্তনের আশায় ভোট দিয়েছিল, কিন্তু আজ তারা প্রতারিত বোধ করছে।

আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চাই। শ্যামনগরে আমরা গাজী নজরুলকেঅবাঞ্চিত ঘোষণা করছি। মাননীয় স্পিকারের কাছে অনুরোধ লম্পট এই গাজী নজরুলকে সংসদ সদস্যের পদ থেকে বহিষ্কার করবেন।

নাগরিক নেতা অধ্যাপক আবু সাইদ বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে একজন জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করেছিল, সেই প্রত্যাশা ভেঙে গেছে। শ্যামনগরের মানুষের সম্মান কোনো ব্যক্তি বা দলের চেয়ে বড়। তাই সত্য উদঘাটন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

নাগরিক নেতা আশেক ই এলাহি মুন্না বলেন, প্রথমে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হয়েছিল। পরে একের পর এক ভিডিও প্রকাশের পর সেই দাবি আর শোনা যায়নি।

এরপর সংসদ সদস্য নিজেই ফেসবুকে একটি বিবৃতি দিয়ে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন। পরে আরও একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে একটি বাড়িতে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়তে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন- স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও জনপ্রতিনিধিরা। তাদের মধ্যে ছিলেন- সোলাইমান কবির, আশেক ইলাহী মুন্না, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল রহমান, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম।

শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকাত আলী, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা, অধ্যাপক আবু সাঈদ ও শফিকুল ইসলাম দুলু।

প্রসঙ্গত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও প্রসঙ্গে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী এবং ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অংশ। এ বিষয়ে তিনি লিখিত বক্তব্যও দিয়েছেন।

অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে।

Ads