কুষ্টিয়ায় সুন্দরবন এক্সপ্রেসে যাত্রীদের ছুরিকাঘাতের অভিযোগ টিটি’র বিরুদ্ধে, আহত ২

মিরাজুল ইসলাম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি কুষ্টিয়া ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় সুন্দরবন এক্সপ্রেসে যাত্রীদের ছুরিকাঘাতের অভিযোগ টিটি’র বিরুদ্ধে, আহত ২

কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠার সময় দরজা পার হওয়াকে কেন্দ্র করে চলন্ত ট্রেনের ভেতরেই এক যাত্রী ও তাঁর ছেলেকে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে ট্রেনের ট্রাভেলিং টিকিট পরীক্ষকের (টিটিই) বিরুদ্ধে।

রবিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় এই ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা প্রায় আড়াই ঘণ্টা ট্রেন আটকে রাখেন, যার ফলে কুষ্টিয়া শহরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে বেলা আড়াইটার দিকে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

এ ঘটনায় আহত দুজন হলেন চুয়াডাঙ্গার বাসিন্দা আব্দুর রহিম ও তাঁর ছেলে সফিউল আওয়াল সুমন। তাঁদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুর ১২টার দিকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে পৌঁছালে আব্দুর রহিম ও তাঁর পরিবার চুয়াডাঙ্গা যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রেনের ‘খ’ (এসি) বগিতে ওঠেন। আব্দুর রহিমের স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ থাকায় তাঁরা বগির দরজার কাছে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মামুন নাম এসে তাঁদের সজোরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ভুক্তভোগী পরিবার আপত্তি জানালে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত টিটিই তাঁর কাছে থাকা একটি চাকু বের করে বাবা ও ছেলেকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে দুজনেরই হাত কেটে গভীর জখম হয়।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ( আরএমও) ইকবাল হোসেন জানান, ছুরি তে আহত হয়ে বাবা ছেলে কে হাসপাতাল চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাদের দুজনের হাতে গভীর ক্ষত হয়েছে। একাধিক সেলাই দেয়া হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুর রহিম বলেন, আমার স্ত্রী খুব অসুস্থ থাকায় আমরা এসি বগির দরজার কাছে দাঁড়িয়েছিলাম। টিটি মামুন এসে আমাদের জোর করে ধাক্কা দেয়। আমার ছেলে এর প্রতিবাদ করলে ওই টিটি বড় একটা চাকু বের করে আমাদের ওপর হামলা চালায়।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত টিটিই মামুন স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যান। এদিকে ট্রেনের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে পড়ে থাকতে দেখে সাধারণ যাত্রীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং আড়াই ঘণ্টা ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা-পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। পরবর্তীতে পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে আহত আব্দুর রহিমের আরেক ছেলে রবিউল আউয়াল পলাশকে আটক করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ট্রেনে ওঠাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতের একটি ঘটনা ঘটেছে। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত টিটিই মামুন পলাতক রয়েছেন, তাঁকে আটকের চেষ্টা চলছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ জানান, ট্রেনের কর্মী ও যাত্রীদের মধ্যে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ঘটনার বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের ইনচার্জ ইতিয়ারা খাতুন। তিনি বলেন, সম্ভবত দরজায় হাত লেগে বা চেপে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে লোকমুখে শুনেছি এক যাত্রীকে ছুরি মারা হয়েছে। কে বা কারা এটি করেছে, তা এখনো নিশ্চিত নই। সাদা পোশাকে অনেকেই ট্রেনে থাকেন, হয়তো ভিড়ের মধ্যে মিশে গেছেন।

Ads