নওগাঁর চকপ্রসাদ আলিম মাদরাসায় জাল সনদে ২৯ বছর চাকুরি ও কাজীর দায়িত্বে

মো: ফজলুর রহমান, নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
নওগাঁর চকপ্রসাদ আলিম মাদরাসায় জাল সনদে ২৯ বছর চাকুরি ও কাজীর দায়িত্বে

নওগাঁয় জাল সনদ দিয়ে ২৯ বছর ধরে শিক্ষকতা ও মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে এ বি এম আবদুল কাদের নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এক ব্যক্তি মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক এ বি এম আবদুল কাদের নওগাঁ সদর উপজেলার চকপ্রসাদ ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এ বি এম আবদুল কাদের ১৯৯৭ সালে চকপ্রসাদ ইসলামিয়া মাদরাসায় এবতেদায়ী শাখায় সহকারী মৌলভী পদে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের কিছু দিন পর ওই মাদরাসায় আলিম শাখা খোলার অনুমতি নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯৯৭ সালের ৩ রা জুলাই মাদরাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি রেজুলেশন করে আবদুল কাদেরকে বিধি বহির্ভূতভাবে এবতেদায়ী সহকারী মৌলভী থেকে সমন্বয় করে সরাসরি আলিম শাখায় আরবী প্রভাষক হিসেবে পদায়ন করে। শিক্ষকতা করার পাশাপাশি এক দশকের বেশি সময় ধরে আবদুল কাদের নওগাঁ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

নওগাঁ সদর উপজেলার মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার সমিতির সভাপতি কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ২০২৪ সালে আবদুল কাদেরের দাখিল ও আলিম মাদরাসার সনদ দুটি যাচাইয়ের জন্য মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর চিঠি দিয়ে জানায় আবদুল কাদেরের দাখিল ও আলিম সনদ দুটি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে ইস্যুকৃত নয়। তার ১৯৮১ সালের দাখিল পরীক্ষার (রোল নম্বর ৮৪৪৯, রেজি. নম্বর- ৪৫১২) সনদ ও ১৯৮৩ সালের আলিম পরীক্ষার (রোল নম্বর ৭৪৮৬, রেজি. নম্বর ৭৯০২) সনদ দুটি জাল। মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডে উল্লিখিত রোল ও নিবন্ধন নম্বরের সনদ ইমান ফকর উদ্দীন নামের এক ব্যক্তির নামে ইস্যু করা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চকপ্রসাদ আলিম মাদরাসার এক শিক্ষক বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ বি এম আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি যে জাল সনদে চাকরি করছেন তার প্রমাণপত্র থাকার পরেও তার বিরুদ্ধে রহস্যজনকভাবে কোনো ব্যবস্থায় নেয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আবদুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, আমার সনদ জালের বিষয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মাদরাসা বোর্ডের নামে ভুয়া চিঠি দেখিয়ে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। শুনতেছি আবার মাদরাসা বোর্ড ও জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর নাকি আবার অভিযোগ করা হয়েছে। আমার সনদের বিষয়ে হাইকোর্টেও একটা মামলা চলমান আছে। এসব বিষয়ে আমি তদন্ত কমিটি ও আদালতের কাছেই জবাব দেব।

তিনি আরও বলেন, আমার মতো অনেকেই সরকারি কিংবা আধাসরকারি চাকরি করে কাজীগিরি করছেন। শিক্ষকতা করলে কাজীগিরি করা যাবে না এ ধরণের কোনো সুস্পষ্ট বিধি নাই।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা শিক্ষা অফিসার শাহাদত হোসেন বলেন, চকপ্রসাদ আলিম মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। শীঘ্রই তদন্তের দিন ঠিক করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিাযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Ads