ভাইরাল প্রাণীটি বাঘ নয়, মেঘলা চিতা আতঙ্ক-আক্রমণ নয়, সংরক্ষণে মাইকিং

সাগর আহম্মেদ, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি(গাজীপুর)ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
ভাইরাল প্রাণীটি বাঘ নয়, মেঘলা চিতা আতঙ্ক-আক্রমণ নয়, সংরক্ষণে মাইকিং

গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও পাশর্^বর্তী শ্রীপুর কয়েকটি এলাকায় লোকালয়ে ঘুরাফেরা করছে বাঘ স্বদৃশ্য একটি বন্যপ্রাণী। ফলে বাঘ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এসব এলাকার মানুষ। তবে বনবিভাগের দাবী, ভাইরাল হওয়া প্রাণীটি বাঘ নয়, এটি বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির মেঘলা চিতা। এটাকে আতঙ্ক ও আক্রমণ নয়, বরং সংরক্ষণের লক্ষ্যেই মাইকিং করেছে বনবিভাগ।

এলাকাবাসী ও বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কালিয়াকৈর উপজেলার কাচিঘাটা ও কালিয়াকৈরে দুটি রেঞ্জ অফিস রয়েছে। এর মধ্যে কাচিঘাটা রেঞ্জের আওতায় কাচিঘাটা ও খলিসাজানি বনবিট অফিসের বিভিন্ন এলাকায় প্রথমে বনাঞ্চল ও লোকালয়ে বাঘ স্বদৃশ্য একটি বন্যপ্রাণীর দেখতে পান মানুষ। পরে এই প্রাণীটি পাশর্^বর্তী শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বনাঞ্চল ও লোকালয়েও বিচরণ করতে দেখা যায়। আর অজানা ব্যক্তিরা এই প্রাণীটির ছবি তুলে বাঘের দেখা অভিমত ব্যক্ত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে দেয়।

এরপর মুহুর্তের মধ্যে এসব এলাকার মানুষের মনে বাঘ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এভাবেই ভাইরাল হয়ে উঠে প্রাণীটি। এটাকে বাঘ বলেই দাবী করেছেন স্থানীয় লোকজন। তাদের দাবী, প্রাণীটির শরীরে বাঘের মতো ডোরাকাটা দাগ রয়েছে। ফলে স্থানীয় লোকজন চরমভাবে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আর এ কারণেই কখনো কখনো বাঘের দেখা পাওয়ার খবরে এটাকে আক্রমণের লক্ষ্যে লাঠিসোটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন আতঙ্কিত মানুষ। খবর পেয়ে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বাঘসাদৃশ্য ছবি দেখতে পায় বনবিভাগ। পরে বনবিভাগের লোকজন প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করে বাঘসাদৃশ্য প্রাণীটি আসলে বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির মেঘলা চিতা (ক্লাউডেড লেপার্ড। এটা গেছো বাঘ নামেও পরিচিত।

সারা বিশে^ বিরল, বিপন্ন, ও দুর্লভ একটি প্রাণী। যা বিড়াল গোত্রের একটি অত্যান্ত সুন্দর এবং রহস্যময় বন্যপ্রাণী। এদের শরীরে মেঘের মতো বড় বড় ছোপ ছোপ দাগ থাকার কারণে নাম রাখা হয় মেঘলা চিতা। এদের প্রধানত হিমালয়ের পাদদেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিা এবং চীনে দেখা গেলেও বাংলাদেশে মহাবিপন্ন এই প্রাণীর অস্তিত্ব রেকর্ড হয়েছে। কালিয়াকৈর ও শ্রীপুরে বনাঞ্চল ও লোকালয়ে ঘুরাফেরা করা ভাইরাল হওয়া প্রাণীটি বাঘ নয়, এটি বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির মেঘলা চিতা।

এরা খুবই লাজুক ও নিশাচর বৃক্ষবাসী প্রাণী। বনে বিচরণকারী বানর, কাঠবিড়ালি, ইঁদুর, পাখি, মাছসহ বিভিন্ন প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে মেঘলা চিতা। এ কারণেই মাছের খামারের আশপাশে এ প্রাণীটির উপস্থিতি বেশি দেখা যাচ্ছে বলেও দাবী করছেন বনবিভাগের লোকজন। এদিকে ঢাকা বনবিভাগের নিদের্শনায় কাচিঘাটা রেঞ্জ ও বিট অফিসের উদ্যোগে মেঘলা চিতা সংরক্ষণে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। বনবিভাগের দাবী, মেঘলা চিতা সাধারণত মানুষের ওপর আক্রমণ করে না। অযথা আতঙ্কিত হয়ে প্রাণীটির ওপর আক্রমণ না করে এটাকে সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় বনবিভাগ।

এব্যাপারে কাচিঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মাইনুল হোসেন তালুকদার জানান, বাঘস্বদৃশ্য একটি প্রাণী ঘোরাফেরা করছে বলে শুনেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল প্রাণীটি বাঘ নয়, চিতাও নয়, এটি বিশে^র বিরল ও বিপন্ন বিড়াল প্রজাতির মেঘলা চিতা (ক্লাউডেড লেপার্ড)। বাংলাদেশে এর সংখ্যা খুব অল্প। আমাদের সুভাগ্য এটা এখানে পাওয়া গেছে। এটা আমাদের সম্পদ।

এটা মানুষের কোন ক্ষতি করে এমন রেকর্ড নেই। এটা লাজুক স্বভাবের প্রাণী। কিন্তু অনেকেই বাঘ দাবী করে এটাকে মারতে লাঠিসোটা নিয়ে বেড়িয়ে পড়ছেন। এটাকে আঘাত বা ধাওয়া করবেন না, ছবি বা ভিডিও তুলতে এর কাছে ভীড় করবেন না। এ ধরণের কার্যক্রলাপের জন্য প্রাণী সংরক্ষণ নিরাপত্তা আইন ২০২৬ অনুযায়ী দন্ডণীয় অপরাধ। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে প্রাণীটিকে সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

 

Ads