ব্রিটিশ আমলের টানেলে পানি আটকে, বছরের দশ মাস দুর্ভোগে কুমারখালীর এক লাখ মানুষ

মিরাজুল ইসলাম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি কুষ্টিয়া ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
ব্রিটিশ আমলের টানেলে পানি আটকে, বছরের দশ মাস দুর্ভোগে কুমারখালীর এক লাখ মানুষ

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতে এখন বড় বাঁধা মাত্র ২০ মিটার তথা ২২ গজের একটি ছোট রেলের টানেল সড়ক। এই অল্প পথটুকু পার হতে এখন সময় লাগছে আধঘণ্টারও বেশি। আর সামান্য পথটির ভোগান্তি এড়াতে অনেককে ঘুরতে হচ্ছে কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত রাস্তা।

সোমবার ( ৩ আগস্ট) সরেজমিনে গেলে স্থানীয়দের দুর্ভোগের ভয়াবহ চিত্র সামনে আসে।

জানা যায়, বর্ষা শুরু হলেই ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই রেলওয়ে টানেলের নিচের সড়কটি তলিয়ে যায় হাঁটু সমান পানিতে। এরপর সেই পানি শুকাতে লেগে যায় ৮ থেকে ১০ মাস। ফলে বছরের অধিকাংশ সময়ই জলাবদ্ধতায় আটকে থাকে দুই ইউনিয়নের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দীর্ঘ এক যুগ ধরে চলা এ ভোগান্তি নিরসনে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও মেলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চলতে থাকলেও স্থায়িত্বশীল কোনো পদক্ষেপ নেয়নি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের হাজারো মানুষ, বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের প্রতিদিনের যাতায়াতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। ইজিবাইক, ভ্যান ও মোটরসাইকেল বিকল হওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

নিয়মিত এ পথে যাতায়াত করা স্কুল শিক্ষার্থী ফারদিনের ভাষায়, আগে সাইকেলে স্কুলে যেতাম। এখন রাস্তা পানিতে ডুবে থাকায় হেঁটে যেতে হয়। কাদাপানিতে জামাকাপড় নোংরা হয়, খুব কষ্ট হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় সালাউদ্দিন মেজর জানান, বৃষ্টি হলেই আট দশ মাস হাঁটু পানি জমে থাকে। যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, কিন্তু বছরের পর বছর এই দৃশ্য বদলায়নি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়ার স্থানীয় বাসিন্দা ও কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মাত্র ২২ গজের একটি টানেলের জন্য আজ দুটি ইউনিয়নের এক লাখ মানুষ জিম্মি হয়ে আছে। বছরের পর বছর এই অবহেলা চললেও এলজিইডি বা প্রশাসনের কোনো হেলদোল নেই। আশ্বাস ছাড়া আমরা কিছুই পাইনি। সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীদের প্রতিদিন এই নরকযন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে। অবিলম্বে স্থায়ী সমাধান না হলে কয়া ও নন্দলালপুরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।

কয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হোসেন বলেন, বারবার প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে কোন লাভ হয়নি। ইউনিয়নের ৭০ হাজার মানুষের প্রধান যাতায়াতের রাস্তাটির জন্য চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।

%খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব ও টানেলের আশপাশে অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা গড়ে ওঠায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথটি বন্ধ হয়ে গেছে। আগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) একটি পাইপ দিয়ে পানি বের হতে পারলেও তা এখন পুরোপুরি অকেজো। সম্প্রতি এলজিইডি সড়কটির কার্পেটিং তুলে আরসিসি সড়ক করলেও পানি সরানোর কোনো ব্যবস্থা না করায় জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে।

সমস্যার কথা স্বীকার করে কুমারখালী উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক বলেন, আগে একটি পাইপ দিয়ে পানি নিষ্কাশন হলেও সেটি বন্ধ হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে দুটি নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা গেলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জানান, প্রকৌশলীদের মতামত নিয়ে শিগগিরই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনীয় বাজেট ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে রাস্তা সংস্কারে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Ads