১৬ বছরের মেয়ে রূপান্তর হলো ছেলে, অবিশ্বাস্য ঘটনায় চাঞ্চল্য

সাগর আহম্মেদ, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি(গাজীপুর)ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
১৬ বছরের মেয়ে রূপান্তর হলো ছেলে, অবিশ্বাস্য ঘটনায় চাঞ্চল্য

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ১৬ বছরের মেয়ে হঠাৎ করেই লিঙ্গ পরিবর্তন হয়ে রূপান্তর হলো ছেলে। এমন দাবী করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, তার পরিবার ও এলাকাবাসী। তবে মেয়ে থেকে ছেলে হওয়ার অবিশ্বাস্য ঘটনায় মঙ্গলবার থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে তাদের বাড়িতে ভীড় করছেন শিশুসহ উৎসুক মানুষ।

লিঙ্গ পরিবর্তিত শিক্ষার্থী হলো, কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কামরাঙ্গীরচালা এালাকার কাউয়ুম দেওয়ানের সন্তান কেয়া আক্তার (১৬)। ছেলে রূপান্তর হওয়ার পর তার নাম পরিবর্তন করে নাম রাখা হয় আব্দুর রহমান কাবির দেওয়ান।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, তার পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় স্থানীয় ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশগ্রহণ করে কেয়া। কিন্তু গত ২০২৫ সালের শেষের দিকে সে তার শরীরে ধীরে ধীরে শারীরিক পরিবর্তন শুরু দেয়। প্রথমে ভয়ে ও লজ্জায় বিষয়টি কাউকে জানায়নি। এক পর্যায়ে তার শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি প্রথমে মাকে পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের জানায় কেয়া। পরে তাকে নিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন পরিবারের সদস্যরা।

এসময় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হরমোনজনিত কারণে তার শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। সম্প্রতি সময়ে তার শারীরিক পরিবর্তন আরও ছেলে রূপান্তরের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এরপর সে ছেলে পরিচয়ে জীবনযাপন শুরু করে। কেয়া আক্তার থেকে তার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় আব্দুর রহমান কাবির। নতুন করে জন্মনিবন্ধন সংশোধনের মাধ্যমে তার নতুন নাম রাখা হয়েছে। মেয়ে থেকে ছেলে হওয়ার অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে তাকে দেখতে তাদের বাড়িতে ভীড় করছেন শিশুসহ উৎসুক মানুষ।

ওই শিক্ষার্থী কেয়া আক্তার ওরফে কাবির দেওয়ান বলেন, ২০২৫ সালের শেষের দিকে আমার পরিবর্তন দেখতে পাই৷ পরে মাকে জানালে আমাকে ডাক্তার দেখান। তারা পরিক্ষা নিরিক্ষা করে হরমোনজনিত কারণে পরিবর্তন হচ্ছে বলে জানান। আমিও বই পড়ে বিষয়টি অবগত হয়েছি। এখন শরীরে ছেলেদের সবকিছু তৈরি হচ্ছে। এজন্য আমার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। আমি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী সুতরাং এটাকে আমি স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছি।

ওই শিক্ষার্থীর মা কনিকা ইসলাম বলেন, আমরা ওর বিয়ের বিষয়ে কথা বললে রেগে যেতো। এর কারণ ও সমস্যা জানতে চাইলে সে আমাদের বিস্তারিত খুলে বলে। পরে আমরা ডাক্তারের কাছে গেলে পরীক্ষানিরীক্ষা করে হরমোন পরিবর্তন হচ্ছে বলে জানায়৷ আমরাও দেখতে পারি অনেক পরিবর্তন। মেয়েদের সব গুন ছেড়ে ছেলেদের মতো হয়ে যায়৷ কয়েকদিন আগে তার নাম পরিবর্তন করেছি৷

ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের পরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, কেয়া আমার স্কুল হতে বিজ্ঞান বিভাগ হতে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। আমরা জানতাম সে মেয়ে, সেভাবেই স্কলে আসাযাওয়া করতো এবং সেভাবেই বড় হয়েছে। হঠাৎ জানতে পারলাম, ওর হরমোন পরিবর্তন হয়ে ছেলে হয়ে গেছে৷

এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসমিন মুনমুন জানান, মেয়ে থেকে ছেলে হওয়ার অবিশ্বাস্য ঘটনাটি আমরাও শুনেছি। কিন্তু পরিক্ষা নিরিক্ষা ছাড়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে খোঁজ খবর নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

 

Ads