দেশের বাজারে সয়লাব অবৈধ কর ফাঁকি দেয়া বিদেশী সিগারেট

আমিনুল আমিন ঃ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
দেশের বাজারে সয়লাব অবৈধ কর ফাঁকি দেয়া বিদেশী সিগারেট

সরকারকে ট্যাক্স বা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অবৈধ ও চোরাচালানকৃত বিদেশি সিগারেটের প্রচার এবং অনলাইন বিক্রি একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনসমক্ষে কড়াকড়ি থাকায় চোরাকারবারিরা এখন ফেসবুক (Facebook), ইনস্টাগ্রাম (Instagram), এবং বিভিন্ন অনলাইন পেজ বা গ্রুপকে তাদের নিরাপদ বিপণন মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে।

শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে আসা অবৈধ বিদেশি সিগারেট এখন দেশের খুচরা বাজার পুরোপুরি সয়লাব করে ফেলেছে। নজরদারির অভাব এবং উচ্চ মুনাফার কারণে সাধারণ মুদি দোকান থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকার শপগুলোতেও এগুলো উন্মুক্তভাবে বিক্রি হচ্ছে।

দেশে উন্মুক্তভাবে অবৈধ বিদেশি সিগারেট বিক্রি হওয়ার মূল কারণ হলো প্রায় ৬০০% উচ্চ আমদানি শুল্ক এড়িয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে এগুলো বাজারে প্রবেশ করছে, যার ফলে সরকার প্রতি বছর আনুমানিক ৪,০০০ কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব হারাচ্ছে। যথাযথ কর বা ট্যাক্স স্ট্যাম্প (ব্যান্ডরোল) না থাকায় এই সিগারেটগুলো বৈধ দেশি ব্র্যান্ডগুলোর তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকার এবং বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে কম দামের কারণে তরুণ ও স্বল্প আয়ের মানুষ ধূমপানে বেশি উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

অবৈধ সিগারেটের মূল বৈশিষ্ট্য ও প্রাপ্তিপ্রধান ব্র্যান্ডসমূহ: দেশের সাধারণ মুদি দোকান ও ফুটপাতে ওরিজ (Oris), এসে (Esse), মন্ড (Mond), ডানহিল (Dunhill) এবং ট্রিপল ফাইভ (555)-এর মতো বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো সহজে পাওয়া যাচ্ছে।

চোরাচালানের রুট হিসেবে আকাশপথের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থল ও সমুদ্র সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধভাবে এগুলো দেশে ঢুকছে।

সার্বিক প্রভাবরাজস্ব ক্ষতি: ইনসাইড ম্যাট্রিক্সের গবেষণা অনুযায়ী, বাজারের প্রায় ১৩.১% সিগারেটই অবৈধ, যার কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শুল্ক আদায় করতে পারছে না। কম দাম ও আকর্ষণীয় ফ্লেভারের কারণে যুবসমাজ সহজেই এই অনিয়ন্ত্রিত তামাকজাত দ্রব্যের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে তাতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা দেশীয় তামাক শিল্প এবং ডিস্ট্রিবিউটররা চরম অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন এতে বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

দেশে সিগারেটের বর্তমান চার-স্তরের জটিল অ্যাড ভ্যালোরেন (মূল্যভিত্তিক) ট্যাক্স পলিসি এবং উচ্চ কর হারের কারণে অবৈধ ও চোরাচালানকৃত বিদেশি সিগারেটের বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তামাকের ওপর মোট করের বোঝা প্রায় ৮৩%, যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। এই কঠোর ট্যাক্স পলিসি মূলত তিনটি প্রধান উপায়ে অবৈধ বাজারকে প্রভাবিত করছে।

অবৈধ বিদেশি সিগারেটের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বহুমাত্রিক ও কঠোর তদারকি এখন সময়ের দাবি। শুধু মাঝে মাঝে শুল্ক গোয়েন্দাদের অভিযান বা সীমান্ত পাহারা দিয়ে এই বিশাল চোরাচালান চক্র ভাঙা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন প্রতিটি ধাপে ধারাবাহিক ও সমন্বিত নজরদারি।

 

Ads