বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরকেউটিয়া গ্রাম যেন অবহেলায় পতিত

আমিনুল আমিন ঃ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরকেউটিয়া গ্রাম যেন অবহেলায় পতিত

চর কেউটিয়া হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বরিশাল বিভাগের বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত একটি গ্রাম। নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলটি প্রাকৃতিকভাবে অত্যন্ত সুন্দর ও উর্বর পলিমাটি দ্বারা গঠিত।

বাংলাদেশ স্বাধীনের পর থেকে বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চর কেউটিয়া গ্রামের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বা অগ্রগতি না হওয়ার প্রধান কারণ হলো তীব্র নদী ভাঙন এবং ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা। চরাঞ্চল হওয়ার কারণে এই এলাকার অবকাঠামো বারবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

একটার পর একটা সরকার পরিবর্তন হলেও ৯ নং জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের চর কেউটিয়ার ভাগ্য ও নদী ভাঙন সমস্যার কোনো স্থায়ী পরিবর্তন হয়নি। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই চরাঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসই পেয়ে এসেছে, কিন্তু বাস্তবে তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি তেঁতুলিয়া ও মেঘনার পেটে চলে যাওয়া বন্ধ হয়নি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি শাসনামলে সারা দেশে মেগা প্রজেক্টের জোয়ার বইলেও বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ৯ নং জাঙ্গালীয়া ইউনিয়ন এবং বিশেষ করে চর কেউটিয়া গ্রামটি সম্পূর্ণ অবহেলিত ও উপেক্ষিত। উন্নয়ন তো দূরের কথা, নদী ভাঙন থেকে ভিটেমাটি রক্ষার ন্যূনতম অধিকার থেকেও এখানকার মানুষ বঞ্চিত হয়েছে।

৯ নং জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের চর কেউটিয়া গ্রামে শিক্ষার জন্য কোনো স্কুল, কলেজ, মসজিদ বা মাদ্রাসা না থাকার কারণে বাড়ছে অশিক্ষিতের সংখ্যা এবং নতুন করে স্থায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান তৈরি না করায় বর্তমান প্রজন্ম সম্পূর্ণ নিরক্ষর ও অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ভয়াবহ কোমলমতি শিশুদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল নদী পার হওয়া এবং তীব্র রোদ-বৃষ্টির মধ্যে ২/৩ কিলোমিটার কাদা-মাটি মাড়িয়ে হেঁটে স্কুল-কলেজে যাওয়া কেবল কষ্টদায়কই নয়, চরম বিপজ্জনক। শিক্ষা যেখানে প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার, সেখানে চর কেউটিয়ার সন্তানদের জীবন বাজি রেখে পড়ালেখা করতে হচ্ছে।

মেহেন্দিগঞ্জ থানা সদর থেকে চর কেউটিয়ার ভৌগোলিক দূরত্ব এবং নদীবেষ্টিত দুর্গম অবস্থানই এখানকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা পৌঁছায় না। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি বা ত্রাণের নৌকা খুব সহজে এই চরে পৌঁছাতে চায় না। ফলে রাষ্ট্রীয় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মতো মৌলিক অধিকার থেকেও এখানকার মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।

নদীবেষ্টিত হওয়ার কারণে চর কেউটিয়া গ্রামের একজন মানুষের অসুস্থ হলে বা মারা গেলে হাসপাতালে নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা না থাকাটা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। উন্নত চিকিৎসার অভাবে একজন মানুষ চোখের সামনে বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে, কিংবা মৃত মানুষের লাশটি নদী পার করে বাড়ি আনতে পরিবারকে চরম অপমান ও কষ্টের মুখোমুখি হতে হবে—এটি কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।

৯ নং জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের চর কেউটিয়ার অবহেলিত মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা (বরিশাল-৪) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য রাজীব আহসান এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়) দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী মহোদয় যখন পুরো উপজেলায় নানামুখী উন্নয়ন করছেন, তখন এই চরম বিচ্ছিন্ন ও ভাঙনকবলিত চরাঞ্চলটির দিকে তাদের বিশেষ নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।এবং একটি সংযোগ সেতু এবং টেকসই রাস্তাঘাট নির্মাণই পারে চর কেউটিয়ার এই দীর্ঘদিনের দুঃখ দূর করতে এবং গ্রামবাসী গ্রামটিতে মাননীয় সংসদ সদস্যর সু-দৃষ্টি দেয়ার আনুরোধ জানান। সেই সাথে এভাবেই আকুতি জানান আপনার এলাকার ভোটাররা।

মহোদয়,
আপনার সুদূরপ্রসারী নেতৃত্ব ও আন্তরিকতায় মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আজ অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে, বহু দুর্গম গ্রাম আজ শহরের সুবিধা পাচ্ছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, মেহেন্দিগঞ্জেরই অংশ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের ‘চর কেউটিয়া’ গ্রামটি আজও অন্ধকারেই রয়ে গেছে।

অতএব, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট আমাদের আকুল নিবেদন—উপজেলার অন্যান্য উন্নত ও আদর্শ গ্রামের মতো আমাদের এই হতভাগ্য গ্রামটির দিকেও আপনার সদয় নজর দিন। আমাদের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা জীবন রক্ষা করতে, মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচাতে এবং ভাঙাচোরা যোগাযোগ ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে একটি সংযোগ সেতু নির্মাণ ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করে আমাদের গ্রামটিকেও মেহেন্দিগঞ্জের অন্যান্য সফল উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

 

 

 

 

Ads