খুলনা স্বর্ণের সদৃশ বিস্কুট দেখিয়ে প্রতারনা: সংঘবদ্ধের দুই প্রতারক গ্রেফতার

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান খুলনা ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
খুলনা স্বর্ণের সদৃশ বিস্কুট দেখিয়ে প্রতারনা: সংঘবদ্ধের দুই প্রতারক গ্রেফতার

খুলনা মহানগরীর গল্লামারী মোড় এলাকায় স্বর্ণের সদৃশ বিস্কুট দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে এক নারীর স্বর্ণালংকার আত্মসাতের ঘটনায় সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ।

এ সময় আত্মসাৎকৃত স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন মোঃ ফয়জুল্লা হোসেন রাব্বি (২৮) ও মোঃ ফারুক বিল্লা (৩৫)।

পুলিশ জানায়, রোববার ০৮ আগস্ট বিকেলে বটিয়াঘাটা থানাধীন চক্রাখালীর মোড় থেকে গল্লামারী মোড়ের উদ্দেশ্যে ইজিবাইকে যাত্রা করেন ৫২ বছর বয়সী এক নারী।

পথে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ওই ইজিবাইকে ওঠেন। পরে গল্লামারী মোড়ে পৌঁছালে তাদের একজন পার্স থেকে একটি চিঠি ও স্বর্ণের সদৃশ একটি বিস্কুট বের করে ওই নারীকে দেখান।

একপর্যায়ে বিভিন্ন কৌশলে তার বিশ্বাস অর্জন করে স্বর্ণের সদৃশ বিস্কুটটি নেওয়ার জন্য তাকে প্রলুব্ধ করা হয়। ওই নারী তাদের কথায় রাজি হলে প্রতারকরা কৌশলে তার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে সটকে পড়েন বলে মামলার তদন্তে জানা গেছে।

আত্মসাৎকৃত স্বর্ণালংকারের মধ্যে ছিল এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল ও একটি স্বর্ণের চুড়ি, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।

ঘটনার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তিগত তথ্য ও অন্যান্য অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ফয়জুল্লা হোসেন রাব্বির সম্পৃক্ততার তথ্য পায় পুলিশ। পরে ৮ আগস্ট বিকেলে সোনাডাঙ্গা থানাধীন ময়লাপোতা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, পরে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে লবণচরা থানাধীন মুজহিদপাড়া এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত একটি বাসা থেকে তোশকের নিচে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ভুক্তভোগীর খোয়া যাওয়া এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল ও একটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।

এরপর ফয়জুল্লার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে সহযোগী হিসেবে ফারুক বিল্লাকে হরিণটানা থানাধীন উত্তরপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ফয়জুল্লা হোসেন রাব্বি আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার জবানবন্দি, উদ্ধার হওয়া আলামত, তথ্যপ্রযুক্তিগত তথ্যসহ তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার দুজনের সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং ঘটনায় তাদের ভূমিকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং তাদের ব্যবহৃত প্রতারণার কৌশল উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Ads