মাগুরা সদর থানার বিপরীতে বেবীপ্লাজায় একরাতে ছয় দোকানে চুরি

সাইদুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি মাগুরা ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
মাগুরা সদর থানার বিপরীতে বেবীপ্লাজায় একরাতে ছয় দোকানে চুরি

মাগুরা শহরের প্রাণকেন্দ্রে সদর থানার বিপরীতে বেবী প্লাজার ছয়টি দোকানে বৃহস্পতিবার ভোরে দুর্ধর্ষ চুরি হয়েছে। সকালে দোকান খুলতে গিয়ে দোকানিরা এ দৃশ্য দেখতে পান।

ভুক্তভোগীরা জানান, লোডশেডিং এর কারণে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক গতরাত ৮ টার দিকে তারা দোকান বন্ধ করে চলে যান। সকালে দোকান খুলতে এসে তারা দেখেন ৬ টি ঘরে সাটার এর নিচ থেকে বাঁশ ঢুকিয়ে বিশেষ কায়দায় ঘরের ভেতর ঢোকে চোরেরা। প্রতিটি ঘরের ক্যাশ কাউন্টার থেকে রক্ষিত টাকা চুরি করে নিয়ে যায় চোর চক্রটি। এতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তাদের মতে সম্ভবত চুরির সময় লোডশেডিং থাকায় সিসি ক্যামেরায় কোন ফুটেজ ধরা পড়েনি।

বেবী প্লাজা ব্যবসায়ী সমিতির নেতা সিদ্দিক খান জানান, সম্ভবত মার্কেটের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় নির্মানাধীন এলাকায় কৌশলে পাশের গাছ বেয়ে উপরে ওঠে চোরেরা। সেখানে তারা মাদক গ্রহণ করে এমন আলামতও লক্ষ্য করা যায়। ধারণা করা হচ্ছে ভোরবেলা নাইটগার্ড বাড়িতে চলে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা চোর চক্র এই চুরির ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার দাবী করেন তারা। এর আগের দিন ১২ আগস্ট ভোররাতে শহরের চৌরংগী মোড়ে পুলিশ সুপার এর অফিসের ৫০ গজের মধ্যে শিমুল স্টোর নামে একটি বৃহৎ পাইকারি দোকানে টিন কেটে দূর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাগুরা সদর থানার এসআই আরফান আহমেদ জানান, আমরা খবর পেয়েই বেবি প্লাজায় পরিদর্শন করেছি। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।

অন্যদিকে প্রায় একই সময়ে সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের বড়খড়ি গ্রামে দেশের অন্যতম বৃহৎ মাসরুম চাষ ও বিপনন প্রতিষ্ঠান ড্রিম মাশরুম সেন্টারও চুরির খবর পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক বাবুল হোসেন জানান, ড্রিম মাশরুম সেন্টারে দুঃখজনকভাবে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এডজাস্টার ফ্যানের মোটরসহ প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র চুরি হয়েছে।

এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির আশপাশে নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের আড্ডা এবং বহিরাগত লোকজনের অস্বাভাবিকভাবে আসা-যাওয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।ড্রিম মাশরুম সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে মাশরুম চাষ, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কাজ করে আসছে। একটি নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ ছাড়া এ ধরনের শিল্পের টেকসই বিকাশ সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, ড্রীম মাশরুম সেন্টারে মাসরুম উৎপাদন, মাসরুম থেকে অর্ধ শতাধিক ভেষজ ঔষধ তৈরীসহ বিপননের বিশাল কর্মকাণ্ড পরিচালনা হয়ে আসছে।

 

Ads