লবনচরার প্রধান সড়ক ও রুপসা ব্রীজের বাইপাস সড়কের জনদুর্ভোগ চরমে. মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান খুলনা ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
লবনচরার প্রধান সড়ক ও রুপসা ব্রীজের বাইপাস সড়কের জনদুর্ভোগ চরমে. মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত

খুলনা নগরীর রুপসা লবনচরা শিপইয়ার্ড সড়কের সংস্কারের দাবিতে আজ মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট সকাল ১১ টায় রুপসা ব্রীজের পশ্চিম পাড়ে চত্বর সংলগ্নে সড়কটির সংস্কারের দাবিতে ব্রিজ বাজার কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নগরীর শিপইয়ার্ড লবনচরার প্রধান সড়কের কাজ বহুদিন ধরে মাঝ পথেই স্থবিরতা হয়ে যায় সাধারণ মানুষের জনদুর্ভোগ চরমে।

খুলনার রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে খানজাহান আলী (রূপসা) সেতু পর্যন্ত লবনচরা শিপইয়ার্ড সড়কটির দুরবস্থা প্রায় একযুগ ধরে চলমান। দীর্ঘদিনের এই বেহাল সড়ক সংস্কারের দায়িত্বে ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্স।

কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরুর পর দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বেড়েই চলছিল। লোক দেখানো সংস্কারে ক্ষোভস্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রতিবছর বর্ষাকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লোক দেখানো সংস্কার করে থাকে। মানহীন ইটের আদলা ফেলে অস্থায়ী মেরামতের নাম করে শুধু দায়সারা কাজ চালানো হয়।

ফলে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা আবারো আগের অবস্থায় ফিরে যায়।‘ভোগান্তি পথচারীদের প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। খানা-খন্দে ভরা রাস্তা, ধুলোবালি ও যানজটের কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও রোগীদের যাতায়াত চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

মানববন্ধন কর্মসূচি পালন কালে বক্তারা ও এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা বলেন “বছরের পর বছর সংস্কারের নামে ভোগান্তি চলছে। কাজ শুরু হয়, আবার বন্ধ হয়ে যায়।

অথচ কষ্ট আমাদেরই পোহাতে হচ্ছে।”গত ৭ আগস্ট কাজের নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম হওয়া এবং কাজ সম্পূর্ণ না করায় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) মাহাবুব ব্রাদার্সের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে।

ফলে শিপইয়ার্ড লবনচরা সড়কের সংস্কারের পাশাপাশি লবণচরা সুইচগেট সেতু ও মতিয়াখালী সুইচগেটের নির্মাণ কাজও মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে। এখনও নতুন কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ঘোষণা না আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

কবে কাজ শুরু হবে তা নিয়ে কেউ স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারছে না। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। খানা-খন্দে ভরা রাস্তা, ধুলোবালি ও যানজটের কারণে সাধারণ মানুষকে নিত্যদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

খুলনা নগরীর ৩১ নং ওয়ার্ড সাবেক ছাত্রনেতা ও বিএনপির ৩১নং ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম আসলাম হোসেন বলেন: স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও রোগীদের যাতায়াত সবচেয়ে বেশি বিঘ্নিত হচ্ছে।

রুপসা ব্রীজ বাজারের ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বাবু তার বক্তব্য বলেন: বছরের পর বছর এই সড়ক সংস্কারের নামে হয়রানি চলছে। কাজ শুরু হয়, আবার বন্ধ হয়ে যায়।

অথচ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে আমাদেরই।”অন্যদিকে কেডিএ সূত্র জানায়, চুক্তি বাতিলের পর নতুনভাবে টেন্ডার আহ্বান করে দ্রুত কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে কবে নাগাদ কাজ পুনরায় শুরু হতে পারে, সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

এ অবস্থায়, রূপসা-শিপইয়ার্ড লবনচরা সড়ক, লবনচরা সুইচগেট সেতু ও মতিয়াখালী সুইচগেটের কাজ বন্ধ থাকায় ওই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মোঃ বদিউজ্জামান।

মোঃ লাবলু.মোঃ বাদল হাওলাদার. হাফেজ মোঃ সালাউদ্দিন. মোঃ নাছির. মোঃ আলম. মোঃ ইউসুফ সর্দার. মোঃ আল-আমিন. মোঃ আউয়াল খা. মোঃ রহমানসহ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Ads