চাঁদপুরের মতলবে কসাই হত্যা মামলায় আসামীর যাবজ্জীবন

চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম, চাঁদপুর প্রতিনিধি ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
চাঁদপুরের মতলবে কসাই হত্যা মামলায় আসামীর যাবজ্জীবন

চাঁদপুরে আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে কসাই নুর মোহাম্মদকে (৪২) শ্বাসরোধ করে হত্যার অপরাধে আসামী সুজন সরকারকে (৩৫) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট ২০২৬ দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এই রায় ঘোষণা করেন। আসামির উপস্থিতিতে এই রায় হয়।

হত্যার শিকার নুর মোহাম্মদ চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন ক্লাব রোড এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় ছিলেন কসাই। বড় স্টেশন এলাকায় গরু জবাই করে গোশত বিক্রি করে জীবীকা নির্বাহ করতেন।

যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামী সুজন সরকার জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়াধারী গ্রামের সরকার বাড়ির সুদর্শন আইচ্চাইল্লা সরকারের ছেলে। সুজন জেলে এবং বড় স্টেশন এলাকায় মাছ বিক্রি করতেন।

মামলার অভিযোগ ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানাযায়, ২০১৬ সালের ২ মার্চ রাতে উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের ঘোড়াধারী গ্রামের বিলের বাড়ির পশ্চিম পাশে ইউনুছ তালুকদারের খালি জমিতে অজ্ঞাত পুরুষ (৪২) ব্যাক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেনকে খবর দেন গ্রাম পুলিশ নিমাই দাস। তখন ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যাক্তির মরদেহ দেখতে পান ইউপি সদস্যসহ আশপাশের লোকজন।

ওই সময় হত্যায় জড়িতরা মৃত ব্যাক্তিকে চোর বলে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। বিষয়টি মতলব দক্ষিণ থানাকে জানানো হলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠান। ময়না তদন্ত শেষে ওই ব্যাক্তির মরদেহ আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয়।

এই ঘটনায় পরদিন ৩ মার্চ মতলব দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন ইউপি সদস্য জাকির হোসেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িত আসামী সুজন সরকারকে গ্রেপ্তার করে ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর আদালতে সোপর্দ করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানাগেছে, আসামী সুজন ও কসাই নুর মোহাম্মদ বড় স্টেশন একই এলাকায় ব্যবসা করতেন। এই পরিচয়ে তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন হয়। একাধিকবার নুর মোহাম্মদ সুজনদের বাড়িতে গিয়েছেন। আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এই ঘটনায় পুলিশ প্রতিবেদনে প্রধান আসামী সুজন সরকারসহ আরো ৩জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন মতলব দক্ষিণ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তপন চন্দ্র দাস মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করেন।

রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কোহিনুর রশিদ বলেন, মামলাটি দীর্ঘ বছর আদালতে চলমান অবস্থায় ১৮ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। স্বাক্ষ্য প্রমাণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামী অপরাধ স্বীকার করায় তার উপস্থিতিতে বিচারক এই রায় দেন। বাকী আসামীদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট রাজেস মুখার্জী।

Ads