কালিয়াকৈরে বিএনপির নেতার খামারে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধারেই তোলপাড়

সাগর আহম্মেদ, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি(গাজীপুর)ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে বিএনপির নেতার খামারে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধারেই তোলপাড়

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিএনপির এক নেতার খামার থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযান চালিয়ে উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের মজিদচালা এলাকার ওই নেতার খামার থেকে এসব চোরাই গরুসহ তিনজন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে বিএনপির নেতার খামার থেকে চোরাই গরু উদ্ধারের খবরে দুদিন ধরে জনমনে নানা আলোচনা-সমালোচনাসহ এলাকায় শুরু হয়েছে তোলপাড়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার দৌলতপুর এলাকার মৃত ইদ্রিস মুন্সির ছেলে মুজিবুর রহমান (৪৫), তার মেয়ে রোবিনা আক্তার (২৫) এবং ঝিনাইদহের সদর উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মৃত বরুজের মেয়ে সালমা আক্তার (৩২)।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও মজিদচালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুখলেসুর রহমান গ্রামের বাড়ি মজিদচালা এলাকায় তার একটি গরুর খামার রয়েছে।

রবিবার বিকেলে বিএনপির ওই নেতার খামার থেকে পাঁচটি গরু বিক্রয়ের চেষ্টা করেন কয়েকজন লোক। ওই বিষয়টি নিয়ে সন্দেহজনক মনে হলে সেখানে জড়ো হন আশপাশের লোকজন। পরে খবর পেয়ে ওইদিন বিকাল ৫টার দিকে কালিয়াকৈর থানার ওসি সহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন- কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম, রেজাউল ইসলাম ও ইউসুফ আলী এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জাহিদ কবির ও জাকির হোসেনসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।

অভিযান চালিয়ে মজিবুর ও তার মেয়ে রোবিনা এবং সালমা নামে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা প্রাথমিকভাবে পুলিশকে জানায় গরুগুলো চুরি করে আনা হয়েছিল। এসব চোরাই গরু গরু এনে বিক্রির উদ্দেশ্যে ওই খামারে রাখেছিল চোর চক্রের সদস্যরা। এরপর ওই নেতার খামার থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করে পুলিশ।

কিন্তু এর আগে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সুমন শেখ, শহিদুল ইসলাম ও জিন্নাত আলী নামে ওই চক্রের আরো তিন সদস্য ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এদিকে বিএনপির নেতার খামার থেকে চোরাই গরু উদ্ধারের ঘটনায় দুদিন ধরে নানা সমালোচনার গুঞ্জনসহ চলছে এলাকায় তোলপাড়। তবে চোরাই গরু উদ্ধার ও চোর আটকের খবরে স্বস্তি ফিরবে বলেও জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ ঘটনায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে কালিয়াকৈর থানায় মামলা দিয়ে সোমবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের গাজীপুর জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা ও ব্যক্তিরা অভিযোগ জানিয়ে বলেন, ওই নেতার খামারে দীর্ঘদিন ধরে চোর চক্রের সদস্যরা গরু চুরি করে এনে অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই বিষয়টি ওই নেতাও জানতেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তাদের কিছুই বলতেন না। তবে ওই চোরচক্রের সঙ্গে তার ছেলেও জড়িত বলেও তাদের অভিযোগ।

ওই খামারটি সুমন নামে এক ব্যক্তির কাছে ভাড়া দিয়েছেন দাবী করে গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও মজিদচালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুখলেসুর রহমান জানান, ভাড়াটে সুমন ও তার সঙ্গীরা মিলে ওই ভাড়া দেওয়া খামারে গরুগুলো রেখেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ সেই গরুগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। সে আমার খামার ঘর ভাড়া নিয়ে কি করেছে? তা আমি জানি না। এছাড়াও সে গত ৩/৪ মাস ধরে খামারের ভাড়াও দিচ্ছে না। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আমি বা আমার ছেলে কোনো ভাবেই সম্পৃক্ত না। আমার ও আমার পরিবারের সুনাম ক্ষুন্ন করার লক্ষ্যে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবী করেন তিনি।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম জানান, ওই খামারে চোরাই গরু থাকার খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এসময় চোরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে গাজীপুর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়াও উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর মালিকানা যাচাই করে সেগুলো প্রকৃত মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তবে জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশের রাতের টহল আরও জোরদার করা হবে।

 

Ads