কুমারখালীতে যুবক ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে তুলে নিয়ে চার ঘণ্টা হাতুড়ি-রড দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

মিরাজুল ইসলাম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি কুষ্টিয়া ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
কুমারখালীতে যুবক ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে তুলে নিয়ে চার ঘণ্টা হাতুড়ি-রড দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মৃদুল হাসান লাবু ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে তুলে নিয়ে পৃথক কক্ষে আটকে রেখে কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মৃদুলের দাবি, তাঁকে হাতুড়ি, লোহার রড ও লাঠিসহ বিভিন্ন জিনিস দিয়ে মারধর করা হয়। পরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্য করা এবং প্রথম স্ত্রীকে পাঁচ লাখ টাকা কাবিনে পুনরায় বিয়ে করতে জোর করা হয়।

এ ঘটনায় মৃদুলের বাবা হানিফ আলী কুমারখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে মো. খলিল মোল্লা (৬০), তাঁর ছেলে ফারুক মোল্লা (৩০), মোমিন মোল্লা (২৮) ও রাকিব মোল্লা (২৫)-এর নাম উল্লেখ করে আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাতনামা করেছেন।

ভুক্তভোগী মৃদুল হাসান লাবু বলেন, “সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। আমাকে পাশের একটি রুমে রাখা হয় এবং আমার স্ত্রীকে অন্য একটি রুমে রাখা হয়। হাতুড়ি, লোহার রড ও পা দিয়ে আমাকে মারধর করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের লাইট দিয়েও মারধর করা হয়। পাশের রুমে আমার স্ত্রীকেও নির্যাতন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “রাত ১১টার পর আমার পরিবার এবং আমার স্ত্রীর পরিবারকে ফোন দেওয়া হয়। তারা আসার পর বিচার-সালিসের নামে আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখানো ও মারধর করা হয়। অস্ত্র দেখিয়ে আমার স্ত্রীকে তালাক দিতে আমাকে বাধ্য করা হয়েছে।

এরপর তাঁর আগের পক্ষের স্ত্রীকে পাঁচ লাখ টাকা কাবিনে পুনরায় বিয়ে করার জন্যও তাঁকে জোর করা হয়। তিনি বলেন, “২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে আমি আগের স্ত্রীকে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে তালাক দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা সেই তালাক মেনে নেয়নি। বরং জোরপূর্বকভাবে আমার বাড়িতে অবস্থান করছিল।

মৃদুল আরও অভিযোগ করেন, নির্যাতনের পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অভিযুক্ত খলিল মোল্লার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেন।

তিনি বলেন“মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও খলিল মোল্লার পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়স্বজন আমাকে হুমকি দিয়েছে। তাদের ভয়ে সেখান থেকে চলে এসে কুমারখালী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। সেখানে চিকিৎসা নিতে গেলেও তারা আমাকে চিকিৎসা নিতে দেবে না—এমন ভয় দেখানো হয়। প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

মৃদুলের বাবা হানিফ আলী থানায় দেওয়া অভিযোগে বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে তাঁর ছেলে মৃদুল হাসান লাবুর সঙ্গে খলিল মোল্লার মেয়ে রিক্তা খাতুনের বিয়ে হয়। রিক্তার আগের সংসারে আট বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর রিক্তা তাঁর মেয়েসহ হানিফের বাড়িতে বসবাস করতেন।

হানিফ অভিযোগ করে বলেন, পারিবারিক অশান্তির কারণে তাঁর ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তবে প্রথম স্ত্রী ও তাঁর মেয়ের ভরণপোষণও দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খলিল মোল্লাসহ অভিযুক্তরা তাঁর ছেলে ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে ধরে নিয়ে তাঁদের বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করেন।

তিনি আরো বলেন, বিষয়টি ছেলে ফোন করে জানালে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। তখন অভিযুক্তরা তাঁদেরও বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান। ছেলে ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে,এমন আশঙ্কা থেকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য থানায় অভিযোগ করেন তিনি।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, “আমি ছুটিতে আছি। কিন্তু কেউ অভিযোগ দিলে কেন নেবে না? অবশ্যই অভিযোগ নেওয়া হবে। তদন্তে দোষী হলে আইনগত ব্যবস্থা হবে।

Ads