পাম্প মালিকের রডের আঘাতে গ্রাহক আহত

আবু মোতালেব হোসেন, প্রতিনিধি (নীলফামারী) ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
পাম্প মালিকের রডের আঘাতে গ্রাহক আহত

লীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় পাম্প মালিকের লোহার অ্যাঙ্গেলের সরাসরি আঘাতে এক কেমিস্টসহ দুইজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় মাহবুবুর রহমান (২৭) নামের এক যুবককে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে ।

গতকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ২টায় ডিমলার ‘মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টার’-এ এ ঘটনা ঘটে। চরম উত্তেজনার মুখে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাম্পটির যাবতীয় কার্যক্রম ও জ্বালানি তেল বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে সরকারের তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের ঘোষণার পরপরই মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টারে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারসহ যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে। রাত ১২টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও রাত সাড়ে ১০টা থেকেই পাম্প বন্ধ করে কর্মচারীরা কেটে পড়েন। মূল ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও পাম্পের ডিজিটাল সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। রাত ১২ টার পর বর্ধিত দামে তেল বেচে বেআইনি মুনাফা লুটতেই প্রোপাইটর মো. শাহ আলমের নির্দেশে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।

ঠিক রাত ১২টায় পাম্পে এসে পাম্প মালিক শাহ আলম মেশিনে নতুন বর্ধিত মূল্য সেটআপ শুরু করলে দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষমাণ ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা প্রতিবাদ জানান এবং আগের নির্ধারিত মূল্যে তেলের দাবি তোলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহ আলম ক্যাশ কাউন্টার থেকে একটি ভারী লোহার অ্যাঙ্গেল এনে গ্রাহকদের ওপর চড়াও হন। তাঁর অতর্কিত হামলায় কেমিস্ট আব্দুল কাদের ও গ্রাহক মাহবুবুর রহমান গুরুতর আহত হয়।

পাম্প চত্বরে অরাজকতার খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ডিমলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ডিমলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফিলিং সেন্টারটির সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে প্রোপাইটর মো. শাহ আলম দাবি করেন, বর্তমানে আমার কাছে পূর্বের দামে কেনা ১০ হাজার ৪৯৭ লিটার পেট্রোল, ১০ হাজার ৩৮০ লিটার অকটেন এবং প্রায় ১১ হাজার লিটার‌ ডিজেল মজুদ রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগে ত্রুটি থাকায় সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ ছিল। আমাদের কর্মচারীদের ওপরই আগে হামলা চালানো হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত পাম্প মালিক শাহ আলম সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। সরকার ও বাজারকে অস্থিতিশীল করতে এবং জাতীয়পর্যায়ে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই সুপরিকল্পিতভাবে এ তাণ্ডব চালানো হয়েছে। ঘটনার পর আলম ফিলিং স্টেশনের লাইসেন্স বাতিলসহ অভিযুক্ত শাহ আলমের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।

Ads