বাংলাদেশের কপ-৩১ অবস্থানপত্রে শ্রমিকের কণ্ঠ প্রতিফলিত করতে হবে: বক্তারা

জিনিউজবিডি২৪ ডেস্ক ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের কপ-৩১ অবস্থানপত্রে শ্রমিকের কণ্ঠ প্রতিফলিত করতে হবে: বক্তারা

বাংলাদেশের কপ-৩১ অবস্থানপত্রে শ্রমিকের অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা, নিরাপত্তা, শোভন কাজ, দক্ষতা উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হতে হবে বলে মত দিয়েছেন বক্তারা।

তাঁরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতিমধ্যেই শ্রমিকদের ওপর পড়ছে। অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ, কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া, অনিরাপদ কর্মক্ষেত্র ও জীবিকার ঝুঁকির মধ্য দিয়ে শ্রমিকেরা এর সরাসরি ক্ষতি বহন করছেন। তাই বাংলাদেশের ন্যায্য রূপান্তর আলোচনার অংশ হিসেবে COP31-এর জন্য সরকারের জাতীয় অবস্থানপত্রে শ্রমিকের অগ্রাধিকারগুলো অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

রোববার ঢাকার বনানীর আফটার আওয়ারস রেসিডেন্সে “ওয়ার্কশপ অন ওয়ার্কার পজিশন পেপার ফর কপ-৩১” শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) ও ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর জাস্ট ট্রানজিশন বাংলাদেশ (এনএজেটিবি) যৌথভাবে এ আয়োজন করে। এতে সহায়তা করে অক্সফাম ও বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ)। প্রতিষ্ঠান দুইটি এনএজেটিবির যৌথ সচিবালয় হিসেবে কাজ করছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) এনএজেটিবির সদস্য হিসেবে কর্মশালায় অংশ নেয়। এমজেএফের ফ্যাশন ফরওয়ার্ড প্রকল্পের অংশ হিসেবে মানবাধিকারভিত্তিক সংগঠনটি পোশাক খাতে ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শ্রমিকবান্ধব রূপান্তরকে এগিয়ে নিতে এ আয়োজনে যুক্ত হয়।

বক্তারা জানান, এটি ধারাবাহিক পরামর্শ কর্মশালার অংশ। পরবর্তী সময়ে যুবসমাজ ও সরকারি অংশীজনদের নিয়ে আরও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সব সুপারিশ একত্র করে সরকারের কপ-৩১ অবস্থানপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চূড়ান্তভাবে সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।

আইএলও বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অফিসার, জাস্ট ট্রানজিশনস এলিসা বেনিস্তাঁ ফ্রেমিগাচ্চি বলেন, কপ-৩১ -কে ‘বাস্তবায়নের কপ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই বাংলাদেশে শ্রমিকদের এখন নীতিগত অঙ্গীকারকে মাঠপর্যায়ের কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তরের দাবি জোরালো করতে হবে। এনডিসির জাস্ট ট্রানজিশন অধ্যায় বাস্তবায়নে তিনি নির্দিষ্ট অর্থায়ন, অর্থবহ সংলাপ, সরাসরি প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব দেন।

অক্সফাম বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মো. মুহতাসিম বিল্লাহ বলেন, ন্যায্য রূপান্তর কেবল জ্বালানি রূপান্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। সব খাতে শ্রমিকের অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা ও শোভন কাজের মান নিশ্চিত করতে হবে।

বিএলএফের নির্বাহী পরিচালক ও এনএজেটিবির সদস্যসচিব এ কে এম আশরাফ উদ্দিন বলেন, কপ আলোচনায় শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সরাসরি অংশগ্রহণ একটি বড় অগ্রগতি। তিনি বলেন, প্রায় ২০টি খাতের প্রায় ৬০টি নাগরিক সমাজ ও ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে এনএজেটিবি কপ-৩১ -এর জন্য একটি সমন্বিত শ্রমিক দাবিনামা প্রস্তুত করছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহ ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি শ্রমিক ও অর্থনীতির ওপর বড় ক্ষতি তৈরি করছে। তিনি সরকারের অবস্থানপত্রে শ্রমিক দাবিনামা অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেন। এর মধ্যে বেতনসহ তাপজনিত বিশ্রাম, সামাজিক সুরক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরকারি প্রতিনিধিদলে শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়গুলো থাকা উচিত বলে তিনি মত দেন।
বিএলএফের প্রোগ্রাম অফিসার জুবায়ের আলম বলেন, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে যুবগোষ্ঠী, ট্রেড ইউনিয়ন ও সরকারি কমিটিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবভিত্তিক শ্রমিক অবস্থানপত্র প্রস্তুত করা হবে।

এমজেএফের ফ্যাশন ফরওয়ার্ড প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী পাবলো নেরুদা বলেন, শ্রমিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় এমজেএফ দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করছে। জাতীয় জলবায়ু নীতিতে শ্রমিকের অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হওয়া জরুরি।

এমজেএফের লিড, ইয়ুথ অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ওয়াসিউর রহমান তন্ময় বলেন, শ্রমিকের কণ্ঠকে স্পষ্ট, প্রমাণভিত্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য ভাষায় তুলে ধরতে হবে। শ্রমিকনির্ভর প্রমাণ, যুব সম্পৃক্ততা ও নীতি-অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে এমজেএফ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবে।

এ ছাড়া এনএজেটিবির নির্বাহী সমন্বয়কারী ও বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ কপ-৩১ অবস্থানপত্রে শ্রমিকের দাবি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। কর্মশালায় ট্রেড ইউনিয়ন, নাগরিক সমাজ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

Ads