খুলনার ড্রাইভারের বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণে নয় মাসধরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান খুলনা ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
খুলনার ড্রাইভারের বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণে নয় মাসধরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন

খুলনা নগরীর ৩১ নং ওয়ার্ড লবণচরা সুইচগেট সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা হাফেজ ইঞ্জিনিয়ার ওবাইদুল হক রাজীব পরিবহনে বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট থানাধীন মাদ্রাসা ঘাট থেকে রাজিব পরিবহনের নাম্বার (ঢাকা মেট্রো-ব- ১৫-৯৭৩১) যোগে খুলনা লবনচরার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি , কিন্তু বাসে ওঠার কিছুক্ষণ পরেই খেয়াল করি ড্রাইভার স্বাভাবিকের চেয়ে খুবই দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে।

ও কিছুক্ষণ পর পর হার্ট ব্রেক করছে, এরকম ব্রেক করার কারণে আমি সামনের সিট ধরে বসি যাতে পরবর্তীতে ব্রেক করলে সামনে সিটে আমার মাথায় আঘাত না খায়ই।

এবং আমি খেয়াল করি আমার অপজিটে দুই সিট মধ্যবয়সের একজন মহিলা তার সামনের সিট ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি তাকে দাঁড়িয়ে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করলে তার সতের একজন যাত্রী বলে তার বারবার বমি হচ্ছে ,বমি যাতে না হয় তাই সে দাঁড়িয়ে আছে।

এইভাবে হার্ট ব্রেক করার কারণে ওনারও খুব অসুবিধা হচ্ছিল ! এই সবকিছু বিবেচনা করে সামনে পরবর্তীতে বাসের হেলপার যখন আমার থেকে ভাড়া নিতে আসে , তখন তাকে আমি এই বিষয়টি জানাই এবং ড্রাইভারকে এইভাবে হার্ট ব্রেক করতে নিষেধ করতে বলি ।কিন্তু সে আমার কথায় বিরক্তি প্রকাশ করে তার আচরণটাও তেমন ভালো ছিল না) ।

এক পর্যায়ে বাস লবনচরা রূপসা ব্রিজের টোল পার করে তারপর ( সুপারভাইজার ও হেলপা ) বাস নির্দিষ্ট স্টপেজে এর কাছে পৌঁছানোর অনেক আগেই রূপসা ব্রিজের মাঝামাঝি থাকা অবস্থায় তাড়াহুড়া করে ডাকতে থাকে ।

এই ধরনের লংজারনির লোকাল টাইপের বাসগুলো তার গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছালে হয়তো এরকমই তাড়াহুড়া করে কারণ সারাটা পথ তারা ডেকে ডেকে লোক নিতে নিতে অনেক দেরি করে ফেলেছে হয়তো যেহেতু শুরুর দিকে অনেকটাই সময় লস করে ফেলেছে তাই শেষের দিকে এসে সময়টাকে একটু মেকআপ করার চেষ্টা )।

তার ডাকে সাড়া দিয়ে একপর্যায়ে আমি যখন উঠে ইঞ্জিন কভারের কাছাকাছি যাই তখনই ড্রাইভার আবারও পূর্বের ন্যায় একইভাবে হার্ট ব্রেক করে , আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই পড়ে গিয়ে বাসে ওঠার সিড়ির অ্যাঙ্গেলে (কোনায়) মর্মান্তিকভাবে মাথায় আঘাত খাই।

আঘাতের কারণে আমার ডান চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় ও বাম চোখে গুরুতর আঘাত লাগে ( বাম চোখে আগের তুলনায় অনেক কম দেখি) ও মাথার হাড় ,কপালের হাড়, নাকের হাড়, দুই চোখের পিছনে ও সাইডের হাড়, ডান সাইডের মুখের হাড় ভেঙে চুড়ে তছনছ হয়ে যায় ,যেটা 3D CT scan এ দৃশ্যমান।

এইভাবে আহত করার পর বাস ড্রাইভারও হেল্পার আমাকে ওখানে রেখেই চলে যেতে চেয়েছে কিন্তু দুইজন যাত্রীর জন্য তারা সেটা পারেনি , পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার সময় ওই ব্যক্তিরা যখন ড্রাইভারও হেলপারকে আমাকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় ধরতে বলেছিল কিন্তু ওরা একটু এগিয়েও আসেনি আমার শরীরে একবার স্পর্শ করেনি।

( এটাই বুঝা যাচ্ছে ড্রাইভার ও হেল্পার ইচ্ছাকৃত এবং ইনটেনশনালী আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এইরকম অতর্কিত হার্ট ব্রেক করেছে)

চিকিৎসার সংক্ষিপ্ত বিবরণ: দুর্ঘটনার পর প্রথমে গাজী মেডিকেল, তারপর খুলনা মেডিকেল কলেজ হসপিটাল, তারপর খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হসপিটাল, তারপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটাল, ঢাকা ডেন্টাল মেডিকেল কলেজ হসপিটাল , জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হসপিটাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সাইন্স হসপিটাল

( চিকিৎসা এখনো চলমান বাম চোখের উপরে কপালের একটুকরো হার সার্জারি মাধ্যমে কেটে ফেলা হয়েছে ওটা পরবর্তীতে আবার লাগাতে হবে এজন্য আরো অনেক টাকার প্রয়োজন!

ম্যাক্সিলা অপারেশনের পর ব্রেন ফ্লুইড অনবরত ঝরে পড়ছিল। ব্রেন ফ্লুইড গত ১৪ জুলাই ২০২৬ ও ২২ শে আগস্ট ২০২৬ এ পড়েছিল যেটা খুবই গুরুতর প্রবলেম এটার জন্য ঢাকা মেডিকেলে ও নিউরোসাইন্স হসপিটালে অপারেশন করতে বলা হয়েছিল আর্থিক সমস্যার কারণে করতে পারি নাই !..

Ads