তেহরানে ইরান-পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্ক বৈঠক: আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ

জিনিউজবিডি২৪ ডেস্ক ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
তেহরানে ইরান-পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্ক বৈঠক: আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ

ইরান এবং মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির তিন সদস্য দেশ পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি যৌথ বৈঠক তেহরানে শেষ হয়েছে। আজ (সোমবার) ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং উত্তেজনা প্রশমনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকটিকে উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধ এবং একটি চুক্তির পথ প্রশস্ত করার উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে সৌদি আরব। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে চার দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা।

তেহরানে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল

তেহরানের সাদআবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি অংশ নেন।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুবরাজ খালিদ বিন সালমান এবং তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকটি আয়োজন করেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি। এটি চারটি আঞ্চলিক দেশের মধ্যে প্রথম এ ধরনের বৈঠক।

মতপার্থক্য সামলে অভিন্ন স্বার্থে সহযোগিতার আহ্বান পেজেশকিয়ানের

বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, আঞ্চলিক সমস্যাগুলো আরও সহজে ও কার্যকরভাবে সমাধানের জন্য দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য সামলে নেওয়া এবং অভিন্ন স্বার্থের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, যদি আমরা বিভেদ সৃষ্টিকারী বিষয়গুলোর ওপর মনোযোগ না দিয়ে আমাদের মতপার্থক্যগুলো সামলে নিই এবং সাদৃশ্য ও অভিন্ন স্বার্থের ওপর জোর দিই, তাহলে আমরা এই অঞ্চলের সমস্যাগুলো আরও সহজে ও কার্যকরভাবে কাটিয়ে উঠতে পারব।

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির প্রভাব সীমিত: রেজায়ি

তেহরানে চার দেশের বৈঠক নিয়ে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা অনেক আগেই শুরু হওয়া উচিত ছিল।

তিনি বলেন, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের তেহরান সফর প্রমাণ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারে না।

রেজায়ি আরও বলেন, ইরানি জনগণের প্রতিরোধ এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি এই অঞ্চলে একটি নতুন ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে। তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় এর প্রতিফলন দেখা গেছে।

ইরানি জনগণের প্রতিরোধের ফলাফল ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা

রেজায়ি বলেন, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন, চার দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।

তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের উদ্যোগে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করতে হবে।

ইরানের এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরও জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলি সরকারকে দক্ষিণ লেবানন, দক্ষিণ সিরিয়া, গাজা ও পশ্চিম তীর থেকে প্রত্যাহার করতে হবে এবং আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।

যৌথ বিবৃতিতে সংলাপ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার

তেহরানে অনুষ্ঠিত চার দেশের বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর তেহরানে চারটি আঞ্চলিক দেশের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিবৃতিতে অংশগ্রহণকারীরা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠাসহ চার দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি আলোচনা ও সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগকে উত্তেজনা প্রশমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Ads