পাহাড়ের দুর্গম জনপদে উন্নয়নের আলোকবর্তিকা ২৬ ইসিবি, বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রা

মো, আজগর আলী খান, রাজস্থলী প্রতিনিধি (রাঙ্গামাটি)ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
পাহাড়ের দুর্গম জনপদে উন্নয়নের আলোকবর্তিকা ২৬ ইসিবি, বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রা

রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি জনপদে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, চিকিৎসাসেবা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহায়তা, খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি এবং পরিবেশ সংরক্ষণসহ বহুমুখী জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (২৬ ইসিবি)। দুর্গম পাহাড়ি পথ, প্রতিকূল আবহাওয়া, ভূমিধস ও নানা প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনীর এই প্রকৌশল ইউনিট।

বিশেষ করে রাঙামাটির রাজস্থলী, বিলাইছড়ি ও আশপাশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নে ২৬ ইসিবির বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এসব কার্যক্রমের ফলে দীর্ঘদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় থাকা পাহাড়ি জনপদের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

সীমান্ত সড়ক নির্মাণে বদলে যাচ্ছে পাহাড়ের যোগাযোগব্যবস্থা

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীন ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন ২০১৬ সালে রাজস্থলী প্রকল্প ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে এ অঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের ৩ জুলাই সীমান্ত সড়ক (রাজস্থলী-দুমদুমিয়া-ফারুয়া-বিলাইছড়ি-সাইচল-বড়খলি-থেগামুখ) নির্মাণ প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, ঘন বনাঞ্চল, খাড়া পাহাড়, প্রতিকূল আবহাওয়া ও ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন সেনাবাহিনীর প্রকৌশল সদস্যরা।

সীমান্ত প্রকল্পের আওতায় রাজস্থলী-দুমদুমিয়া-থানচি-লইতংপাড়া-থেগামুখ সড়ক নির্মাণের কাজও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৭৬ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্টের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে বগাখালী থেকে করল্লাছড়ি পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি তৃতীয় পর্যায়ে করল্লাছড়ি থেকে যেসামুখ পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার এবং অদয়াবাব থেকে থালিপাড়া পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়কের কাজ শিগগিরই শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এসব সড়কের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্রিজ, কালভার্ট, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং দৈনন্দিন যাতায়াত আরও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম

শুধু সড়ক নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নেই ২৬ ইসিবির কার্যক্রম। স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগও বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তিনটি যাত্রী ছাউনি, চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বিভিন্ন স্থানে নয়টি পানির পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ৭০ হাজার ৬৮০টি ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

এসব উদ্যোগ পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

বৌদ্ধ বিহার সংস্কারে আট বান টিন অনুদান

সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের দৃষ্টান্ত হিসেবে গত ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার সাইচল প্রকল্প ক্যাম্প সংলগ্ন গাছবাগান পাড়ার একটি বৌদ্ধ বিহার সংস্কার ও উন্নয়নকাজের জন্য ২৬ ইসিবির পক্ষ থেকে আট বান ঢেউটিন অনুদান দেওয়া হয়েছে।

দুর্গম এলাকার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিহারটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিহার সংস্কারে সেনাবাহিনীর এ সহযোগিতাকে স্থানীয়রা আন্তরিকতা ও সম্প্রীতির ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

শিক্ষার আলো ছড়াতে শিক্ষার্থীদের পাশে ২৬ ইসিবি

দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে থুমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে ২৬ ইসিবি।

এ উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শুধু শিক্ষা উপকরণ বিতরণ নয়, বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম সচল রাখতে দুইজন শিক্ষকের বেতন-ভাতার দায়িত্বও গ্রহণ করেছে ২৬ ইসিবি।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা, সেখানে শিক্ষকদের বেতন-ভাতার দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

খেলার মাঠ নির্মাণে শিশু-কিশোরদের মুখে হাসি

থুমপাড়া এলাকায় আগে কোনো খেলার মাঠ না থাকায় শিশু-কিশোররা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে ২৬ ইসিবির উদ্যোগে সেখানে একটি খেলার মাঠ তৈরি করা হয়েছে।

এতে স্থানীয় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মাঠ নির্মাণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে জার্সি ও বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

একইভাবে বগাখালী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপন ও চারটি বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থা করেছে ২৬ ইসিবি। দুর্গম এলাকায় বিদ্যুতের সীমাবদ্ধতার কারণে যেখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ত, সেখানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ আরও আরামদায়ক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের মাঠ তৈরিসহ শিক্ষার্থীদের মাঝে জার্সি ও খেলাধুলার বিভিন্ন সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে।

ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় মানবিক সহায়তা

২৬ ইসিবির জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মধ্যে চিকিৎসাসহায়তার বিষয়টিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

দূর্গম অঞ্চলে সেনাবাহিনীর মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত দেখা গেছে এক ক্যানসার রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে। থুমপাড়ার এক বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। বিষয়টি অধিনায়ক ২৬ ইসিবি কে জানানোর পরে উনি তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেন এবং তার চিকিৎসা ঢাকা সিএমএইচ এ করানোর ব্যবস্থা করেন। একই সাথে যাবতীয় খরচ বহন করে ২৬ ইসিবি। বর্তমানে ওই ব্যক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন

দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে একজন গুরুতর অসুস্থ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার আওতায় আনার এ উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের কাছে মানবিক সহায়তার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

পাহাড়ের উৎপাদিত কৃষিপণ্য পৌঁছাচ্ছে সমতলের বাজারে

একসময় রাজস্থলী, চন্দ্রঘোনা কিংবা চট্টগ্রামের মতো এলাকায় যাতায়াত করা ছিল দূর্গম পাহাড়ের অনেক মানুষের কাছে প্রায় অসম্ভব। যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে পাহাড়ে উৎপাদিত কলা, হলুদ, আদা ও অন্যান্য কৃষিপণ্য স্থানীয় বাজারেই কম দামে বিক্রি করতে হতো। অনেক সময় পরিবহন সংকটের কারণে উৎপাদিত পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকত।

কিন্তু সীমান্ত সড়ক নির্মাণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন স্থানীয় কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত কলা, হলুদ, আদা ও অন্যান্য কৃষিপণ্য রাঙামাটি, রাঙ্গুনিয়া ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহের সুযোগ পাচ্ছেন।

এতে কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

থুমপাড়া এলাকার একজন কার্বারি বলেন, “আগে আমাদের এলাকার মানুষের কাছে রাজস্থলী, চন্দ্রঘোনা কিংবা চট্টগ্রামে যাওয়া ছিল অনেক কঠিন। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না থাকায় আমরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হতাম। এখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সীমান্ত সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে আমাদের যাতায়াতের নতুন সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। পাহাড়ে উৎপাদিত কলা, হলুদ, আদা ও অন্যান্য কৃষিপণ্য এখন রাঙামাটি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতে পারছি।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের এলাকার শিক্ষা, চিকিৎসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও খেলাধুলার ক্ষেত্রেও ২৬ ইসিবি সহযোগিতা করে যাচ্ছে। একজন ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যে সহযোগিতা করা হয়েছে, তা আমরা কখনো ভুলব না। পাশাপাশি বৌদ্ধ বিহার সংস্কারের জন্য ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করছে।

বগাখালী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আগে বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ছিল না। বিদ্যুতের অভাবে গরমের সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করাও কষ্টকর হয়ে পড়ত। খেলার মাঠ ও ক্রীড়া সামগ্রীর অভাবে খেলাধুলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত ছিল তারা।

শিক্ষার্থীরা জানায়, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমাদের বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল, ফ্যান ও খেলার মাঠের ব্যবস্থা হয়েছে। খেলাধুলার জন্য জার্সি ও বিভিন্ন সামগ্রীও দেওয়া হয়েছে। এসব সহযোগিতায় আমাদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার পরিবেশ অনেক ভালো হয়েছে। আমরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ২৬ ইসিবির প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সমৃদ্ধ পাহাড় গড়ার প্রত্যাশা

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে উন্নয়নের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা হলো যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা। দীর্ঘদিন ধরে অনেক এলাকার মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিপণ্যের বাজারজাত করণ ও জরুরি নাগরিক সুবিধা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি সড়ক ও দুর্গম পথের কারণে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

এ অবস্থায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার, খেলাধুলা ও পরিবেশ সংরক্ষণে ২৬ ইসিবির উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকলে দূর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুর্গম এলাকার মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

সব মিলিয়ে ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের কার্যক্রম শুধু সড়ক নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং দুর্গম পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা, শিক্ষা বিস্তার এবং আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। পাহাড়ের বুকে যোগাযোগের নতুন পথ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মানুষের মনে উন্নত জীবনের যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Ads