হোমনায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর ‘আত্মহত্যার’ অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

মোর্শেদুল ইসলাম শাজু, হোমনা প্রতিনিধি (কুমিল্লা)ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
হোমনায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর ‘আত্মহত্যার’ অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

কুমিল্লার হোমনায় যৌতুকের দাবির মুখে মানসিক চাপ সইতে না পেরে তাহমিনা আক্তার (২৮) নামের এক গৃহবধূ কীটনাশক (কেরির ট্যাবলেট) পান করে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর নিহতের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অভিযুক্ত স্বামী মো. সুমন মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি; এবং হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সোমবার রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের দরিচর গ্রামে স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তাহমিনা আক্তার একই ইউনিয়েনের নূড়ালাপুর গ্রামের মো. আবদুল বাতেন মিয়ার মেয়ে এবং দরিচর গ্রামের মো. সুমন মিয়ার স্ত্রী। তাদের সংসারে চার বছরের আব্দুর রহমান নামের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১০ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে পারিবারিকভাবে তাহমিনার সঙ্গে সুমনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সুমনের পরিবার প্রায়ই বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য তাহমিনাকে চাপ দিতো। টাকা দিতে না পারলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এ নিয়ে এর আগেও তিনবার সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছিল বলে তাহমিনার কাকা মো. মুসা মোল্লা।

সর্বশেষ গত ২৭ অক্টোবর শুক্রবার সুমনের দাবিকৃত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তাহমিনার ভাই। এতে তাহমিনার ওপর মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায়। সোমবার রাতে তিনি কেরির ট্যাবলেট (কীটনাশক) খেয়ে ফেললে স্বামীর বাড়ির লোকজন তাকে ওই রাত পৌণে এগারোটর দিকে প্রথমে হোমনা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক স্যালাইনসহ অন্যান্য চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। কিন্তু ঢাকায় না নিয়ে তাকে অন্যত্র হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সোমবার মধ্যরাতে স্বামীর পরিবার থেকে তাহমিনার বাবার বাড়িতে আত্মহত্যার খবর পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকেলে আসরের নামাজের পর নূড়ালাপুর গ্রামে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় স্বামীর বাড়ির পক্ষ থেকে পাশের বাড়ির মাত্র দু-একজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে হামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পারিবারিক অশান্তির কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Ads