কক্সবাজার জেলায় আড়াই লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

কক্সবাজার প্রতিনিধি ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:১১ অপরাহ্ণ
কক্সবাজার জেলায় আড়াই লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

জেলায় এবার ২ লক্ষ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন আমন ধানের চাল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। ইতিমধ্যে শতভাগ আমন ধান কাটা শেষ হওয়ার পর কৃষকের ধান বাজারে বিক্রির ধুম পড়েছে। সেই জমিতে বোরোধানের বীজতলা, সরিষা, বাদাম, ভুট্টাসহ নানা ফসলের চারা রোপণ শুরু করেছেন জেলার কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানা যায়, খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা কক্সবাজারে চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় তিনটি জাতের ধানের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ৭৮ হাজার ৭৩০ হেক্টর। তারমধ্যে হাইব্রিড জাতের ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর, উচ্চ ফলনশীল জাতের (উফশী) ৭০ হাজার ৭৩০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ৫০০ হেক্টর। এতে চালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৫৮ হাজার ২৩৪ মেট্রিক টন।

ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ আমন ধান কাটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. বিমল কুমার প্রমাণিক। তিনি বলেন, কক্সবাজারে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। রোদ-বৃষ্টি সবকিছু ঠিক থাকায় কৃষকেরা আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন।

ধান কাটার পর পরেই কৃষকের বিভিন্ন ফসলের চারা রোপন করেছেন।এদিকে চলতি অর্থবছরে জেলা থেকে ৮ হাজার মেট্রিক টন ধান ও চাল কেনার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে খাদ্য বিভাগ। তারমধ্য, ধান ৭৩৬ টন, আতপ ৫১২৬ এবং সিদ্ধ ২৩৮৭ মেট্রিক টন। আগামী ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগ। সরকার ধান ও চাল সংগ্রহে বার বার হোঁচট খাওয়ার কারনে গত বছরের তুলনায় ধানের দাম ১ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩৪ টাকা, আতপ ৩ টাকা বাড়িয়ে ৪৯ টাকা এবং সিদ্ধ ৩ বাড়িয়ে ৪৯ টাকা করা হয়েছে।

জেলা মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল আকতার বলেন,কক্সবাজারের সিদ্ধ চালের চাহিদা নেই। এজন্য এই জেলায় শুধু একটি মাত্র লাইসেন্সধারী অটোমেটিক সিদ্ধ চালকল আছে এবং ৭৮ টি হাস্কিং আতপ চালকল রয়েছে। চলতি মৌসুমে ৫৪ জন মিল মালিক খাদ্য বিভাগের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

তিনি বলেন, সরকার চালের যে দাম নির্ধারণ করেছেন, সেটা অনেক কম। এই দামে চাল বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে। এরপরেও লাইসেন্স বাতিল করার ভয়ে অনেকে লোকসানে সরকারকে চাল বিক্রি করেন?

চাল বাজার সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন জানান, জেলায় ৫ শতাংশ মোটা চালের চাহিদা এবং চিকন চালের চাহিদা ৯৫ শতাংশ। এখানে (কক্সবাজার) যে চাল উৎপাদন হয় এগুলো চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এ চালের গ্রাহকও কম। আমরা চট্টগ্রাম, বগুড়া, নওগাঁ, দিনাজপুর থেকে চাল আমদানি করি।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আবু কাউছার জানান, সরকার এবার ধান ও চালের দাম বাড়ানোর কারনে কৃষক পর্যায়ে ধান ক্রয় শুরু হয়েছে। চুক্তিবদ্ধ মিল মালিকদের কাছ থেকে পর্যন্ত আতপ ১ হাজার ২১৭ টন এবং সিদ্ধ ৪৮৩ মেট্রিক টন সংগ্রহ করা হয়েছে।

Ads