সৈয়দপুরে তীব্র গ্যাস সংকট, বেশি টাকা দিয়েও মিলছেনা গ্যাস সিলিন্ডার

সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নিলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে তীব্র গ্যাস সংকট, বেশি টাকা দিয়েও মিলছেনা গ্যাস সিলিন্ডার

নীলফামারীর সৈয়দপুরে গত ৩দিন ধরে গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার দাম নির্ধারণ করে দেয়ার পর অতিরিক্ত দামেও মিলেছেনা গ্যাস সিলিন্ডার। কিন্তু গত ৩ দিন থেকে আমদানি না হওয়ার কথা বলে ডিলাররা তাদের গোডাউন বন্ধ করে রেখেছেন। আর এই সুযোগে খুচরা ব্যবসায়িরা প্রতিদিন চড়া দামেও ৩-৪ টার বেশি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করছেন না।

দোকানীরা বলছেন বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অতিরিক্ত দাম দিয়েও ডিলারদের কাছে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব দোকানী গ্যাস সিলিন্ডার বিত্রুি করছেন তা সরকার নির্ধারিত মুল্যের অনেক বেশি। এতে সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। গ্যাস সিলিন্ডারের খুচরা বিক্রেতা বক্কর আলী জানান, ডিলাররা তাদের গোডাউন বন্ধ রেখেছেন। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি দাম দিতে চাইলেও তারা তাদের গোডাউন খুলছেন না।

জানা যায়, সরকার প্রথমে ১৩৫০ টাকা, এরপর আন্দোলনে দাম নির্ধারণ করেন ১৪৫০ টাকা। কিন্তু ডিলাররা সরকারের নির্ধারিত মুল্যের তোয়াক্কাই করছেন না। ফলে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ানোর আশায় সরবরাহ না করে তাদের গোডাউন বন্ধ করে রেখেছেন। গত ৩ দিন আগে ডিলারের কাছে ১৩৫০ টাকা থেকে ১৪৫০ টাকায় প্রতিটি সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও হঠাৎ সব সিলিন্ডারই উধাও হয়ে যায়।

শহরের নয়াটোলার সারমিন আকতার রানী নামের এক গৃহিণী বলেন, গত ১১ জানুয়ারী হঠাৎ গ্যাস শেষ হয়ে যায়। একারনে গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে প্রথমে দোকানে চেষ্টা করি। এরপর ডিলারের কাছে দিয়েও গ্যাস না পেয়ে ফিরে এসেছি। দুই দিন থেকে মাটির চুলায় লাকরি দিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সরকার এমনিতেই গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। যে গ্যাস সিলিন্ডার গত মাসে ১৩৫০ টাকায় কিনেছি, সেই গ্যাস সিলিন্ডার পার্শ্ববর্তী রোকেয়া বেগম, ৩ দিন আগে ১৬০০ টাকায় কিনেছেন। সরকার জনগণের স্বার্থে নয়, ব্যবসায়িদের স্বার্থে দাম বাড়ালেও বাজারে গ্যাস সংকট দেখিয়ে আরো বেশি দামে তা বিক্রি করার পাঁয়তারা করছে। সরকারের উচিত এসব ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

তিনি আরো বলেন, সৈয়দপুর শহরে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস। এরমধ্যে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহার করেন। গ্যাস না পাওয়ায় তাদের দুরগতির শেষ নাই। দারুলউলুম মাদরাসা মোড় এলাকায় চা ও পুড়ি বিক্রেতা জিয়া বলেন, চা ও পুড়ি বিক্রি করে দু’বেলা দুমুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে আছি। কয় টাকাই বা লাভ হয় বলেন? এরপর গ্যাস সংকটের কথা বলে অস্বাভাবিক মুল্যে গ্যাসের সিলিন্ডার ক্রয় করে ব্যবসায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। জনসাধারণের কথা না ভেবে সরকার গ্যাস সিলিন্ডারের মুল্য বাড়িয়ে দেয়ায় ২-৩ দিন থেকে ষ্টাফদের খরচও তুলতে পারছি না।

১২ জানুয়ারী সকালে শহরের সুলতান নগরে বসুন্ধরা গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলার আতাউর রহমানের সাথে কথা বলতে গিয়ে দেখা যায়, তার গোডাউনে তালা ঝুলছে। ফোন দিয়ে ও তাঁকে পাওয়া যায় নি। পরে B M L P নামের এক গ্যাস ডিলার নীলফামারী- ৪ আসনের সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক এর সাথে দাম বৃদ্ধি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাকে না পাওয়ায় তারই ইকু হেরিটেজ রিসোর্সের জিএম মাসুদ রানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোম্পানির কাছেই বেশি দামে কেনা হয়েছে। একারনে দাম একটু বেশি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ি জানান, ডিলারদের গোডাউনে পর্যাপ্ত গ্যাস সিলিন্ডার মজুত আছে।এরপর ও টাকা দিয়েও তা পাওয়া যাচ্ছে না।

২-১ জন ২/৪ টা গ্যাস সিলিন্ডার দিলেও রাখছেন সরকারের নির্ধারিত মুল্যের অনেক বেশি। যার ফলে আমরাও সিলিন্ডার প্রতি ৩০-৪০ টাকা লাভ রেখে বিক্রি করছি। এতে করে একদিকে তাদের যেমন ব্যবসা পরিচালনা করতে কঠিন হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে ক্রেতাদের মাঝে ও ঝগড়া বিবাদ হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে তাদের পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। দ্রুত গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করা, কৃত্রিম সংকট বন্ধ করা এবং বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার বলে জানান তারা।

Ads