জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে খাল, নদী ও জলাশয় খনন কার্যক্রম শুরু : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

আশরাফুজ্জামান খোকন, বোদা প্রতিনিধি (পঞ্চগড়)ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে খাল, নদী ও জলাশয় খনন কার্যক্রম শুরু : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি বলেছেন, খাল, নদী ও জলাশয় খনন করলে দেশের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। কিন্তু পতিত শেখ হাসিনা সরকার এই জলাশয়গুলো রক্ষণাবেক্ষণ করেনি। ফলে নাব্যতা ও পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে।

চলমান উদ্যোগ সম্পর্কে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানান, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান শহীদ জিয়াউর রহমানের পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রায় পাঁচ দশক পর, সেই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরে সাহাপাড়ায় সারাদেশব্যাপী খাল খনন অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার প্রামানিক পাড়ায় ছোট ঝিনাইখুড়ি নদীর খাল পুনঃখনন কাজ শুরু হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে ঝিনাইখুড়ি নদীর খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ও যথাযথ মান বজায় রেখে, খনন কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন এর সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড আয়োজিত খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন. পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম, পানি উন্নয়ন অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও (সার্কেল)-এর কৃষ্ণ কমল সরকার, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাফসান জানি, জেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ তারা, সাধারণ সম্পাদক দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময়সহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ঝিনাইখুড়ি খালটি একসময় প্রবাহমান নদী ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ভরাট হয়ে গেছে। এখন আর নদীর সেই চিত্র নেই। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩ কিলোমিটার খনন করা হবে, যা প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসন ও শুষ্ক মৌসুমে পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু খাল খননই করছি না, মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি করছি। ড্রেজার মেশিনের পরিবর্তে শ্রমিক দিয়ে কোদাল ও টুকুরী ব্যবহার করে খনন কাজ করা হলে স্থানীয় হাজারো মানুষের আয়-রোজগারের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতির চাকা তৃণমূল পর্যায়ে ঘুরবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে খাল ও জলাশয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক জায়গায় দখল হয়ে গেছে। এসব খাল পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দখলমুক্ত করে খালগুলো পুনরায় জনগণের কাজে লাগানো হবে।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হলে দেশের পানি সংকট দূর হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

Ads