ভোলায় লঞ্চঘাটে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ভিড়, চরম ভোগান্তি

শরিফ হোসাইন, বিশেষ প্রতিনিধি ভোলা ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
ভোলায় লঞ্চঘাটে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ভিড়, চরম ভোগান্তি

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভীর লক্ষ্য করা গেছে। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে লঞ্চের অপেক্ষায় ঘাটে ৪-৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও লঞ্চ না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি ও অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ছোট ছোট ট্রলার-স্পিডবোটে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন তারা। এতে করে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ঘাটে পর্যাপ্ত নৌযান না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এসব কর্মজীবী মানুষ। ঈদ উপলক্ষে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে নৌযান বৃদ্ধি না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক যাত্রীরা।

শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, কর্মস্থলে ফেরার জন্য ঘাটে এসে অবস্থান করছেন হাজার হাজার যাত্রী। এসব যাত্রী লঞ্চযোগে ভোলা থেকে ঢাকা কিংবা ভোলা থেকে লক্ষ্মীপুর হয়ে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় যাবেন। তবে ঘাটে পর্যাপ্ত নৌযান না থাকায় তারা ৪-৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পারাপার হতে পারছেন না। কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপে পন্টুনেও দাঁড়ানোর জায়গা নেই। নৌযান সংকটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ ছোট ছোট নৌযান ও স্পিডবোটে বাড়তি ভাড়া দিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন।

ঘাটে অপেক্ষমাণ মো. মিজানুর রহমান, আলাউদ্দিন, মিলনসহ ১০-১২ জন যাত্রী জানান, ছুটি শেষে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য সকালে লঞ্চঘাটে এসেছেন। তারা সবাই চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি কম্পানিতে চাকরি করেন। সকাল থেকে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো লঞ্চে উঠতে পারেননি। ঘাটে কয়েক হাজার যাত্রী থাকলেও পর্যাপ্ত লঞ্চ না থাকায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাই বাধ্য হয়ে অনেকে কয়েকগুণ ভাড়া বেশি দিয়ে স্পিডবোট ও ছোট ছোট ট্রলারে করে মেঘনা নদীতে পাড়ি দিচ্ছেন।

গার্মেন্টস কর্মী মো. আল আমিন জানান, ঈদে ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভোর ৬টার দিকে ইলিশা ঘাটে এসেছেন। ঘাটে এসে প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো লঞ্চে উঠতে পারেননি। এখন কিভাবে যাবেন, সেটিও জানেন না।

আব্বাস উদ্দিন নামের এক যাত্রী জানান, ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে মাত্র চারটি সি-ট্রাক ও দুইটি লঞ্চ রয়েছে। কিন্তু ঘাটে অনেক যাত্রী। যাত্রীর তুলনায় লঞ্চ কম থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে অবৈধ ট্রলার ও স্পিডবোটে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এ সুযোগে ট্রলার ও স্পিডবোট চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। পারাপারের জন্য পর্যাপ্ত নৌযান থাকায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ইলিশা ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. কাওছার হোসেন জানান, ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে চারটি সি-ট্রাক ও দুইটি লঞ্চ যাতায়াত করছে। মেঘনা নদীর এই রুটটি ডেঞ্জার জোনের আওতায় থাকায় এ রুটে সি-সার্ভে ছাড়া অন্য কোনো নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ। তাই এ ৬টি নৌযানই এখন যাত্রীদের জন্য ভরসা। ঈদের ছুটি শেষে শুক্রবার থেকেই হঠাৎ করে এ রুটের যাত্রীর চাপ বেড়ে যায়। এতে করে ঘাটে মানুষের ভিড় দেখা দিয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সি-ট্রাকগুলোকে ট্রিপ বাড়িয়ে দিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ভোলা নৌবন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কান্তি জানান, ঘাটে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ব্যাপক চাপ রয়েছে। এ চাপ সামাল দেওয়ার জন্য এ রুটে যে নৌযানগুলো আছে, সেগুলো দিয়েই পারাপারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

Ads