সৈয়দপুরে আচার বানিয়ে সফল উম্মে তছলিমা আকতারি

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি(নীলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে আচার বানিয়ে সফল উম্মে তছলিমা আকতারি

সরাসরি ও অনলাইনে চলছে বেচাকেনা। মাত্র একবছরের আচার ও মসলার ব্যবসা ব্যবসা স্বাবলম্বী ও লাভবান হয়েছেন সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়নের বকশাপাড়া গ্রামের উম্মে তছলিমা আকতারি। নানা পদের আচার তৈরি করে পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। হয়েছেন একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। আচার বিক্রি করে প্রতিমাসে তাঁর আয় প্রায় লাখ টাকা।

সরজমিনে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উম্মে হাবিবা তার বাসাটি বানিয়ে ফেলেছেন আচারের বাড়ি। একদিকে কড়াইয়ে তৈরি হচ্ছে আচার। আরেক দিকে তৈরি করা হচ্ছে প্যাকেজিং। থরে থরে সাজানো হয়েছে মজাদার আচার। লেভাপড়া শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে দৃঢ় মনোবল নিয়ে শুরু করেন আচার তৈরি। ২০২৫ সালের মার্চে শুরু করে এ আচারের ব্যবসা। প্রায় একবছর গড়িয়েছে তার ব্যবসার। পরবর্তীতে গড়ে তোলেন প্রিমি ফার্ম নামে একটি কারখানা।

তার কারখানায় তৈরি হচ্ছে গরুর মাংসের আচার, বরই, তেঁতুল, জলপাই, চালতা, টমেটো, রসুনসহ বিভিন্ন ধরনের আচার এবং সেগুলো বিক্রি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। তৈরি হচ্ছে জিরা, ধুনিয়া গুড়া, ফিরনি ইত্যাদি জিনিসপত্র মানুষের মন জয় করেছে। বিশেষ করে তাজা গরুর মাংস থেকে মানসম্মত উপায়ে তৈরি গরুর মাংসের আচার খাবার টেবিলে জয় করে নিচ্ছে সবার মন। এ ছাড়া, তছলিমার তৈরি আচারের স্বাদ ও গুণগত মান বাড়িয়েছে ক্রেতার চাহিদা। এ ফার্মে তৈরি হচ্ছে জলপাই আচার, চালতা আচার ও রসুনের আচার।

এর আগে তছলিমা অন্যান্য ব্যবসা করার চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেননি। পরে স্বামীর পরামর্শে এ আচারের ব্যবসায় আসেন। সাথে যোগ করেন গরুর মাংসের আচার। নিজবাড়িতে সুস্থ সবল গরু এনে ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করে জবাই করে চর্বি ও হাড় বাদ দিয়ে মাংস নেন। এরপর প্রসেসিং করে তৈরি করেন গরুর গোস্তের মজাদার আচার। সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য সম্মতভাবে তৈরি এসব আচার নিরাপদ খাদ্য হিসাবে বিএসটিআই’র অনুমোদন পেয়েছেন তিনি।

উম্মে তছলিমা আকতারির স্বামী শামসুজ্জামান ভেটেরিনারি চিকিৎসক হিসেবে সরকারি চাকরি করেন। পরিবারে মাত্র দুই সন্তান। প্রতিটি কাজে স্বামী ও পরিবারের সহযোগিতা পান তছলিমা। প্রিমি ফার্মে কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার বেকার নারী-পুরুষের। তাঁরা দিন হাজিরা ও মাসিক বেতনে কাজ করছেন প্রিমি ফার্মে আচার তৈরিতে।

উম্মে তছলিমা আকতারি বলেন, শুরুর পথ আমার কিছুটা কঠিন ছিল, তবে আমি আমার সিদ্ধান্তে অটুট ছিলাম। ছোটবেলা থেকে আমার ইচ্ছা ছিল নিজে কিছু করার। পাশাপাশি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। ছোটবেলায় মায়ের কাছেই আচার ও অন্যান্য জিনিস তৈরির হাতেখড়ি হয়েছে। প্রথমে অনেকে অনেক কথা বললেও এখন সকলেই সাহস যোগান। নিজের স্বপ্ন আর সাহসকে পুঁজি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি।

সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক ও নারী সংগঠক শিউলি বেগম বলেন, তছলিমা একজন উদ্যমী নারী উদ্যোক্তা। সে অনেকবার ব্যর্থ হলেও থেমে থাকেনি। নারীদের সামাজিকভাবে বিভিন্ন ধরনের বাঁধার মুখে পড়তে হয়, তবে আমি মনে করি নারীদের স্বাবলম্বী হওয়া জরুরি। তছলিমার কাজ সমাজের অনেক নারীর অনুপ্রেরণা হতে পারে।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন্নাহার শাহাজাদী বলেন, নারীরা এগিয়ে যাবে এজন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের কাজ করি। তছলিমাকেও সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।

Ads