পীরগঞ্জের জাফরপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নিচ্ছে

সরওয়ার জাহান, পীরগঞ্জ প্রতিনিধি (রংপুর)ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
পীরগঞ্জের জাফরপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নিচ্ছে

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নিচ্ছেন অভিভাবকরা। গত এক মাসে ওই মাদ্রাসা থেকে ১৫ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অন্য মাদ্রাসায় গিয়ে ভর্তি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাতা ও মোহতামিম হাফেজ মাওলানা মোসাদ্দিক বিল্লাহ কর্তৃক মাদ্রাসায় অধ্যয়নরতদের সাথে অনৈতিক ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীরা অন্যত্র চলে যাওয়া শুরু করে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে,পুর্ব থেকেই মাদ্রাসাটিতে ৪০ থেকে ৪৫ জন শিক্ষার্থী ছিল। শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার পর বর্তমানে এখানে ১৫ থেকে ১৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। যারা প্রতিমাসে রীতিমতো বেতন দিয়ে পড়ালেখা করে।

অথচ এদের অনেকেরই নাম এতিম বা অসহায় দুস্থ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এবং ভুয়া নাম ঠিকানা দিয়ে ৩৮ জনের নামে প্রত্যেকের নামে প্রতিমাসে ২ হাজার করে টাকা উত্তোলন করে মোসাদ্দিক বিল্লাহ সমুদয় টাকা পকেট ভর্তি করেন। এভাবে তিনি গত কয়েক বছরে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

স্বভাবত: ধর্মীয় এসব মাদ্রাসার প্রতি মুসলমানদের দুর্বলতাটা থাকাটাই স্বাভাবিক। মুসলমানদের এই দুর্বলতা অনুভূতিকে পুঁজি করে এ ধরনের মাদ্রাসায় কোন কোন মোহতামিম ছাত্রদের দ্বারা এলাকায় বাড়ী-বাড়ী ধানচালসহ রাস্তায় দাঁড়িয়ে মাদ্রাসার উন্নয়নে টাকা পয়সা আদায় করে থাকেন। এ আদায়ের একটা বড় অংশ নাকি ওই মোহতামিমের পকেটে চলে যায়। এ মাদ্রাসাটিতেও এ ঘটনার ব্যতিক্রম নেই।

অনুসন্ধানে দেখা যায়,কোন কোন মোহতামিম এসেছেন খালী হাত পা নিয়ে। মাত্র ক’ বছর যেতে না যেতেই তাঁদের অনেকেই ফুলে ফেঁপে উঠেছেন। প্রতি বছর বাইকের মডেল পাল্টিয়ে আয়েশী ভঙ্গিতে চলাফেরা করেন। এখানে কোন জাতীয় দিবস পালন করা হয় না।

সরকারের ক্যাপিটেশন গ্রান্টভুক্ত এতিমখানায় রাষ্ট্রিয় বিশেষ-বিশেষ দিনে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের কথা থাকলেও এ মাদ্রাসাটিতে কোন দিনও উন্নত মানের খাবার দেয়া হয় না। জাফরপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার অভ্যন্তরে কি ঘটেছে ? যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ইনিয়ে-বিনিয়েও বলার চেষ্টা করেছেন অনেকেই।

যে কারনে এলাকাবাসী মাদ্রাসাটি থেকে অনেকই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন-অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ” শাক দিয়ে কখনোই মাছ ঢাকা যায় না”। স্থানীয়দের দাবি,বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা দরকার। সেই সাথে জরুরী দরকার ভুয়া নামে ক্যাপিটেশন গ্রান্ডের অর্থ উত্তোলন ও আতœসাতের বিষয়টিও।

 

Ads