খুলনার সোনাডাঙ্গার সোলার পার্ক পুনরায় চালুর দাবিতে ফিডের ৬ টি সুপারিশ।

reporter
গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান খুলনা ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
খুলনার সোনাডাঙ্গার সোলার পার্ক পুনরায় চালুর দাবিতে ফিডের ৬ টি সুপারিশ।

দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ খুলনার সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক গত ১৪ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

অথচ মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা সম্ভব বলে দাবি করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড)।

আজ বুধবার ১০ জুন খুলনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর বালু মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের উদাসীনতার কারণে দেশের অন্যতম প্রাচীন এই সোলার পার্কটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

তারা অবিলম্বে পার্কটি পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি নগরজুড়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণে ছয় দফা সুপারিশ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে ফেড-এর আহ্বায়ক আনোয়ারুল কাদির বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, যুদ্ধ এবং ভূরাজনৈতিক সংকট বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতকে আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি নতুন করে সামনে এনেছে। এ পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প নেই।

তিনি জানান, ২০০৮ সালে ৪ দশমিক ৩৩ একর জমির ওপর নির্মিত সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি কারিগরি ত্রুটি ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন তার চুরির ঘটনায় ২০১২ সাল থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ এক যুগ পার হলেও এটি সচল করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

উৎপাদন বাড়ানোর বড় সম্ভাবনা

ফেড-এর উপস্থাপিত কারিগরি পরিকল্পনা অনুযায়ী, পার্কটির অব্যবহৃত ছাদ এবং পুকুরের অংশ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।

সংগঠনটির হিসাব বলছে, ছাদে ৪৫ কিলোওয়াট এবং পুকুরের প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকায় ভাসমান সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে আরও ২৯০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। ফলে মোট উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় ৩৩৫ কিলোওয়াটে।

তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন প্যানেল স্থাপন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। এই বিনিয়োগের বিপরীতে বছরে প্রায় ৪৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে দাবি করা হয়।

সংগঠনটির মতে, অপেক্স (OPEX) মডেলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রকল্পটি পরিচালনা করা গেলে পাঁচ বছরের মধ্যেই বিনিয়োগের অর্থ উঠে আসবে। এরপর আরও প্রায় ১৫ বছর নগর কর্তৃপক্ষ প্রায় বিনা খরচে বিদ্যুৎ সুবিধা পেতে পারে।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও হতে পারে আয়ের উৎস
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সোলার পার্কের সঙ্গে থাকা দীর্ঘদিনের বন্ধ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিকেও পুনরায় চালু করা যেতে পারে।

সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি এটি খুলনা সিটি করপোরেশনের জন্য নতুন আয়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
ছয় দফা সুপারিশ

সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ককে ঘিরে ফেড ছয়টি সুপারিশ তুলে ধরে। এগুলো হলো- দ্রুততম সময়ের মধ্যে সোলার পার্কটি পুনরায় চালু করা। পার্কের ছাদ ও পুকুরের অংশ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণ।

খুলনা নগর ভবন ও বড় বেসরকারি ভবনগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে মালিকদের প্রণোদনা দেওয়া। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সফল মডেল অনুসরণ করে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সোলার সিস্টেম স্থাপন।

বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নতুন ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন নিশ্চিত করতে কেডিএর কার্যকর ভূমিকা। খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি-বান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ।

সফল উদাহরণ সামনে
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা উল্লেখ করেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একই ধরনের উদ্যোগ নগরজুড়ে বাস্তবায়ন করা গেলে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে, পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

ফেড নেতারা বলেন, বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকা সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ককে পুনরায় সচল করা শুধু একটি প্রকল্প পুনরুদ্ধার নয়: বরং এটি খুলনাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

Ads