একজন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারী দিয়েই চলছে সৈয়দপুর সহ নীলফামারী জেলায় ভোক্তা সুরক্ষা

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি(নীলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
একজন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারী দিয়েই চলছে সৈয়দপুর সহ নীলফামারী জেলায় ভোক্তা সুরক্ষা

সৈয়দপুর সহ নীলফামারী জেলায় প্রায় ২১ লাখ মানুষের সেবা প্রদান করছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নীলফামারী জেলা কার্যালয় চালাচ্ছেন মাত্র একজ কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারী দিয়ে। সহকারী পরিচালক ও একজন অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটারের ওপরই নির্ভর করছে বাজার তদারকি, ভোক্তাদের অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তি, ভ্রাম্যমাণ আদালতে অংশগ্রহণ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং দাপ্তরিক দায়িত্ব। ফলে জেলায় নিয়মিত নজরদারি ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের। পদের আসন থাকলেও শুধু মাত্র জনবল সংকট থাকায় ইচ্ছে থাকা সত্বেও তারা জনসাধারণের সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন বলে জানা যায়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নীলফামারীর আয়তন ১ হাজার ৫৪৬ দশমিক ৫৯ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী জেলার জনসংখ্যা ২০ লাখ ৯২ হাজার ৫৬৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১০ লাখ ৪১ হাজার ৮০২ জন, নারী ১০ লাখ ৫০ হাজার ৭১২ জন এবং হিজড়া ৫৪ জন। জেলার নীলফামারী সদর, সৈয়দপুর, ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জ এই ছয়টি উপজেলায় প্রতিদিন লাখো মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণ করেন। কিন্তু এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র দুইজন দিয়ে।

জেলার ভোক্তা কার্যালয় থেকে জানা যায়, অনুমোদিত একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে সহকারী পরিচালককে মাঠপর্যায়ের অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, ভোক্তাদের শুনানি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তদারকি, আদালত-সংক্রান্ত কার্যক্রম, সচেতনতামূলক সভা-সেমিনার এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে একজন অফিস সহকারীকেই অফিস ব্যবস্থাপনা, নথিপত্র সংরক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত কাজসহ নানা দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, মূল্যতালিকা প্রদর্শনে অনিয়ম, ওজনে কারচুপি, অতিরিক্ত দাম আদায় এবং বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের মতো অভিযোগ প্রতিনিয়ত উঠছে। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ অভিযান অত্যন্ত জরুরি হলেও জনবল সংকটের কারণে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

সৈয়দপুর শহরের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, জনবল বৃদ্ধি হলে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান হলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসে। কিন্তু এত বড় জেলায় মাত্র দুইজন দিয়ে সব জায়গায় নিয়মিত অভিযান চালানো ইচ্ছে থাকা সত্বেও সম্ভব হচ্ছে না।

সৈয়দপুর শহরের অনেকেই বলেন অনেক মানুষ জানেনই না ভোক্তা অধিদপ্তর কার্যালয়ে কীভাবে অভিযোগ করতে হয়। শহর সহ ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো দরকার। জনবল বাড়লে সাধারণ মানুষ আরও সহজে সেবা পাবে বলে জানান তারা।

সৈয়দপুরের এক অভিজ্ঞ সাংবাদিক মারুফ হোসেন লিওন দ বলেন, “ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কাজ শুধু জরিমানা করা নয়; ব্যবসায়ী ও ভোক্তা উভয় পক্ষকে সচেতন করাও তাদের দায়িত্ব। কিন্তু তারা জনবল সংকট থাকায় ভেজাল বিরোধী অভিযান চালাতে পারছেন না। তিনি বলেন শহরের প্রায় প্রতিটি আঁটকে পরা অবাংগালী ক্যাম্পই চলছে কাগজ পত্র বিহীন ভেজাল শিশু খাদ্য। সৈয়দপুরের তৈরি শিশু খাদ্য ও ঢাকার চটকদার মোড়ক ভেজাল শিশু খাদ্য সৈয়দপুরের কাড়ি হাটিতে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে কিন্তু জনবল না থাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালালে, বাকিরা দোকান ও ফ্যাক্টরি বন্ধ করে পালিয়ে যায়। অর্জিত হয় সার্থকতা। এজন্য ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে শিশু খাদ্য উৎপাদন কারি।

সৈয়দপুর শহরের অনেকেই বলেন ঢাকার জিন্জিরা ও চকবাজারের পরের স্হান হলে সৈয়দপুর। এ-শহরে শুধু মানুষ তৈরি ছাড়া সব কিছুই হয়। আর ভেজাল ব্যবসায়িরা যখন যে সরকার আসেন, তখন তারা সেই সরকারের নেতা বা কর্মী সেজে ইচ্ছে মতে ভেজাল শিশু খাদ্য তৈরী করে চলেছেন। আর তাদের ট্রড লাইসেন্স ছাড়া কোন কিছুই কাগজ পত্র নাই। তাদের ভাব দেখলে মনে হয় ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর তারাই শেখ হাসিনাকে তারিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন।

এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শামসুল আলম বলেন, বর্তমানে মাত্র দুইজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে জেলার ছয়টি উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছি। জনবল বৃদ্ধি পেলে বাজার তদারকি আরও জোরদার করা এবং ভোক্তাদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ২ জনই সৈয়দপুর সহ সারা নীলফামারী জেলার মানুষদের সেবা দিয়ে চলেছি।

 

Ads