সার-বীজের দাম ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে দুশ্চিন্তায় কুষ্টিয়ার আমন চাষিরা

মিরাজুল ইসলাম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি কুষ্টিয়া ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
সার-বীজের দাম ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে দুশ্চিন্তায় কুষ্টিয়ার আমন চাষিরা

সার, বীজ, ডিজেল ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, সঙ্গে কমে যাওয়া সরকারি প্রণোদনা। সব মিলিয়ে চলতি আমন মৌসুমে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কুষ্টিয়ার কৃষকেরা। গত মৌসুমে লোকসানের ক্ষত কাটিয়ে নতুন করে আমন আবাদে নেমেছেন তারা। তবে উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবারও লাভের মুখ দেখা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের ভাদালিয়া গ্রামের কৃষক মনিরুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে ২৫ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করবেন তিনি। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে চারা রোপণের প্রস্তুতি থাকলেও উপকরণের বাড়তি খরচ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

তিনি বলেন, ডিজেল, সার ও বীজের দাম বেড়েছে। শ্রমিকের মজুরিও আগের তুলনায় প্রায় ১০০ টাকা বেশি। সব মিলিয়ে প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের ধানবীজের দাম গত মৌসুমের তুলনায় প্রতি বস্তায় প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বীজের দাম আরও বেশি।
কুমারখালী উপজেলার নন্দালালপুর গ্রামের কৃষক রিপন হোসেন বলেন, সারের সংকটের কারণে খোলাবাজার থেকে প্রতি বস্তা সার ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সম্প্রতি আউশ চাষে এক লাখ টাকা ব্যয় করেও ধান বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ৫০ হাজার টাকা। প্রতি মণ কাঁচা ধান ৮৫০ টাকায় বিক্রি করতে হওয়ায় তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মোড়ের বীজ ব্যবসায়ী জেড এম সাঈদী সাগর জানান, গত বছরের তুলনায় এবার আমন বীজের বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক আবাদ কমিয়ে দিচ্ছেন।

মাঠপর্যায়ের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে আমন চাষে সরকারি প্রণোদনার পরিমাণও কমেছে। গত বছর শুধু কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৩০০ কৃষক প্রণোদনা পেলেও এবার তা কমে ২ হাজার ৭০০ জনে দাঁড়িয়েছে। জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও একই চিত্র দেখা গেছে।

কৃষি বিশ্লেষক মোহাম্মদ জাবির হুসাইন বলেন, ধানের দাম কম থাকলেও চালের বাজার চড়া। এর সুবিধা নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও মিল মালিকরা। কৃষকদের রক্ষা করতে বাজারে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, প্রণোদনা বৃদ্ধি, স্থায়ী বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত এবং অপরিকল্পিত চাল আমদানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলায় প্রায় এক লাখ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছিল। এবারও একই পরিমাণ জমিতে আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও অন্যান্য প্রতিকূলতার কারণে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, কৃষকের লোকসান কমাতে সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও সহায়তা দিচ্ছে। সার ও বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে ধানের বাজারদর কম থাকায় কৃষকেরা প্রত্যাশিত লাভ পাচ্ছেন না।

এই প্রতিবেদনটি চাইলে আরও অনুসন্ধানধর্মী বা প্রথম পাতার উপযোগী ভাষায়ও সাজিয়ে দিতে পারি।

Ads