জাতীয় ছাত্রদলের ৫৩-তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সিলেটে সমাবেশ

শহীদ আহমদ খান, সিলেট প্রিতিনিধ ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
জাতীয় ছাত্রদলের ৫৩-তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সিলেটে সমাবেশ

জাতীয় ছাত্রদলের ৫৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। ২৩ আগস্ট বিকেল ৫টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে জেলা কমিটির আহবায়ক শুভ আজাদ শান্ত’র সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহবায়ক সায়মন কবির বন্ধন’র পরিচালনায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবুল ফজল, দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়া, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা কমিটির অন্যতম নেতা প্রত্যয়, দেলোয়ার হোসেনসহ প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৭১ সালে ছাত্র-জনগণের জাতীয় মুক্তি ও স্বাধীনতার আকাঙ্খাকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন সা¤্রাজ্যবাদের সাথে রুশ সামাজিক সা¤্রাজ্যবাদের আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্ধে উগ্র-বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জন্মলাভ করে। দেশের ছাত্র সমাজের সামনে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-দালাল পুঁজির বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রত্যয়ে জাতীয় মুক্তি, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্লোগান নিয়ে ১৯৭৩ সালের ২৩ আগস্ট জাতীয় ছাত্রদল প্রতিষ্ঠিত হয়।

সর্বজনীন গণমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা কায়েম করার জন্য প্রয়োজন শ্রমিক-কৃষক-জনগণের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠা করা। আমরা এমন এক সময়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছি, যখন দেশের অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ক্যাম্পাস দখলদারিত্ব নিয়ে প্রতিক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনসমূহের মধ্যে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও পেশিশক্তির মহড়া চলছে। শিক্ষার্থীরা আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত।

শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, সেশনজট, বেকারত্ব, গবেষণার অবনতি ও শিক্ষার মানের ক্রমাবনতির প্রশ্নগুলোকে আড়াল করে তাদের দলীয় বলয়ে আবদ্ধ রেখে অপরাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শিক্ষাকে পণ্যে রূপান্তরের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি, রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি প্রত্যাহার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিকীকরণ এবং বৈষম্যমূলক শিক্ষা নীতির ফলে শিক্ষা আজ শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের সন্তানদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

অতীতের সকল সরকারের ন্যায় বর্তমান সরকারের সময়েও দেশে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-যুবক-তরুণ বেকার। লক্ষ লক্ষ সরকারী শুণ্যপদ থাকলেও সেগুলোতে পর্যাপ্ত নিয়োগ দেওয়া হচ্ছেনা। যেসব দপ্তরে সীমিত সংখ্যক নিয়োগ প্রদান করেছে সেগুলোতেও বেপরোয়া ঘুষ-দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্য হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে উপমহাদেশের ছাত্রসমাজ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশমাতৃকার প্রয়োজনে মা, মাটির স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় গৌরবোজ্জ্বল আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। ব্রিটিশ আমল থেকে অদ্যাবধি বিদেশী সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আমাদের দেশের উপর আধিপত্য, নিয়ন্ত্রণ চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে যতগুলো সরকার ক্ষমতাসীন হয়েছে সকল সরকারই সাম্রাজ্যবাদের তাঁবেদারী করে তাদের স্বার্থ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হলেও বিদেশী সা¤্রাজ্যবাদী শক্তি এবং তার শোষণের এদেশীয় খুঁটি সামন্তীয় শোষণ ও স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং আমলা-দালাল পুঁজির রাহুগ্রাস থেকে এদেশের মানুষ মুক্ত হয়নি। তাই এদেশে জাতীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াই অসমাপ্ত থেকে যাওয়ায় ১৯৭৩ সালের ২৩ আগস্ট জাতীয় মুক্তি, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অগ্রসর করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে জাতীয় ছাত্রদল জন্মলাভ করে।

নয়া-উপনিবেশিক পাকিস্তানে উগ্র-বাঙালি জাতীয়তাবাদকে কাজে লাগিয়ে নয়া-ঔপনিবেশিক বাংলাদেশ সৃষ্টি করা হয়। জনগণের তিন শত্রু- সা¤্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-দালাল পুঁজি বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের পরিণতিতে বাংলাদেশ জন্ম লাভ করেনি। ফলে অর্জিত হয় না প্রকৃত স্বাধীনতা, জাতীয় মুক্তি ও গণতন্ত্র। অর্জিত হয় নি প্রকৃত জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার।

Ads