মহাখালীতে পরিবহন শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
মহাখালীতে পরিবহন শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে অবৈধভাবে পার্ক করা বাস সরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টার্মিনালের সামনে সড়কের উভয় পাশে অবস্থান নিয়ে তারা যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাখালী এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব আশপাশের সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে। যানজট বনানী, গুলশান, তেজগাঁও ও সাতরাস্তা এলাকায়ও পৌঁছে যায়। এতে এসব সড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা যায়।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে পার্ক করা বাস সরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

অবরোধের ফলে মহাখালী ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীরা।

এবিষয়ে পরিবহন মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জামাল হোসেন জানান, গত ২৯ তারিখে মহাখালী পরিবহন টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকার কিছু সাধারণ পরিবহন মালিকদের গাড়ি অসচেতনতাবশত চালকদের ভুলের কারণে পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক ডাম্পিংয়ে নিয়ে যায়।

এবং তারা তাদের ভুল স্বীকার করে সরকারের নির্ধারিত সকল প্রকার ফাইন, জরিমানা এবং ডাম্পিং বিল আইনানুযায়ী পরিশোধ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে বলে জানান কিন্তু উক্ত দপ্তরের বিশেষ নির্দেশনা বা সদয় অনুমতি না থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ডাম্পিং বিল গ্রহণ করছেন না এবং গাড়িগুলোও ছাড়ছেন না।

তিনি বলেন, মহাখালী ডিপোতে পরিবহন রাখার খুব সংকট, জায়গা খুব কম। জায়গা হিসেবে আমাদের পরিবহন অতিরিক্ত। এখানে আমাদের টার্মিনালে ৩৫০ টি পরিবহন রাখার ক্যাপাসিটি থাকলেও, সেখানে আমাদের পরিবহন প্রায় ১৫০০ টি । বর্তমানে এই পরিবহন রাখতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন ৩০০ ফিটের ওই জায়গাটা একটু সমস্যা হচ্ছে এখনো কমপ্লিট হয়নি, গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গাটা কমপ্লিট হলেও ওখানে থাকা, খাওয়া এবং গোসল আনুষাঙ্গিক বিষয়টা স্বাভাবিক না। পরিবহন শ্রমিকরা পার্কিং করে রেখেছে বা পুলিশের কথা শুনেনি এজন্যতো গাড়ি নিয়ে গেছে, সাজাও খেটেছে। তাহলে এখন তারা ফাইন দিতে বা জরিমানা দিতেও রাজি তারা ডাম্পিংয়ের বিল দিতে গেলে কর্মকর্তারা বলেছেন পুলিশ কমিশনার স্যারের সাথে কথা না বলে আমরা কিছু করতে পারবো না।

এবিষয়ে পরিবহন মালিক শ্রমিক কর্মচারিরা আমাদের কাছে এলে তখন আমরা আমাদের উপরস্থ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলি তারা বলেছে দেখতেছি। আজকে ১০-১২ দিন যাবৎ এটা নিয়ে প্রশাসনের সাথেও কথা বলে আমাদের উপরস্থ কর্মকর্তা এটার কোনো সুরাহা দিতে না পারায় এরিই ধারাবাহিকতায় অবশেষে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিবহন মালিকরা এবং পরিবহন শ্রমিক কর্মচারীরা রাস্তায় নেমে গাড়ি অবরোধ করে রাস্তার ভিতরে শুয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, ঘটনার শুরুতে আমরা ছিলাম না আমরা যখন জানতে পাড়ি তখন ঘটনাস্থলে এসে তাদেরকে বুঝানোর জন্য অনেক চেষ্টা করি তারা বলে আপনাদের তো আমরা ১০-১২ দিন ধরে অনেক অনুরোধ করেছি আপনারা আমাদের কথার কোনো গুরুত্ব বা কোনো কাজ করতে পারেন নাই এখন আপনাদের কথা আমরা শুনবো না। আমাদের গাড়ি ছাড়ার পরেই আমরা রাস্তা থেকে উঠবো।

অবশেষে প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকতাদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা সড়ক থেকে অবস্থান প্রত্যাহার করে নিলে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

Ads