আগাম সবজির চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে কুড়িগ্রামের রৌমারী এবং রাজীবপুরের সবজি চাষি

মাহাবুব আলম, রাণীশংকৈল প্রতিনিধি(ঠাকুরগাঁও)ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
আগাম সবজির চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে কুড়িগ্রামের রৌমারী এবং রাজীবপুরের সবজি চাষি

ব্রহ্মপুত্র,-নদীর পূর্ব পারে জেগে ওঠা নদির বুকে চরের কৃষকরা এখন বিষমুক্ত ও আধুনিক উপায়ে সবজি চাষ করছেন।

উর্ববর পলিমাটিতে বিষমুক্ত নানান জাতের সবজি উৎপাদন করে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে সরবারাহ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে নদী বেষ্টি খেটে খাওয়া কৃষকরা।

মুলা ,জাত লাউ, লাল শাক, পুঁই শাক, পালন শাক,পাতা কপি, ফুল কপি, শসা, করলা, ঝিঙে, ঢ্যাঁড়শ, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন এবং মরিচের ও ব্যাপক ফলন হচ্ছে।

অনেকে শীতকালীন আগাম সবজি (যেমন: বাঁধাকপি, ফুলকপি, মুলা ও ধনেপাতা) লাল শাক চাষ করে বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে দ্ররত লাভবান হচ্ছেন।

আগে যেখানে কেবল একটি নির্দিষ্ট মৌসুমে চাষ হতো, বর্তমানের কৃষকরা উপজেলা কৃষি অফিসের ও কৃষি কর্মকর্তাদের কারিগরি সহায়তায় বছর জুড়েই সবজি উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন ।

কৃষকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে তাদের উৎপাদিত ফলন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব উৎপাদিত সবজি দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় সরবরাহ করে নিজের ভাগ্য বদলাতে সক্ষম হয়েছে।

কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করছেন ।

একসময়ের দারিদ্র্যপীরিত বা মঙ্গা-কবলিত কুড়িগ্রামের রাজিবপুর ,ও রৌমারীর চরগুলো এখন কৃষি ও পশুপালনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটিয়েছেন। অনেকেই সবজি চাষকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন এবং ছেলেমেয়েদের পড়াশোনাসহ উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ পাচ্ছেন।

বেশি লাভের পাশাপাশি কৃষকদের কিছু প্রতিকূলতারও মুখোমুখি হতে হয়:আবহাওয়া: অতিবৃষ্টি, অসময়ের বন্যা বা খরা অনেক সময় ফসলের ক্ষতি হয়ে থাকে।

এর মোকাবিলায় কৃষকরা এখন পলিটানেল ও স্বল্পমেয়াদি ফসলের জাত জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন।

উৎপাদন খরচ: সার, বীজ ও বালাইনাশকের মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় কৃষকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই খরচ কমাতে কৃষি বিভাগ চাষিদের রাসায়নিকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বেশি বেশি জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে।

এ এ বিষয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন চলতি মৌসুমে আগাম শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে ৩৩০ হেক্টর জমিতে। তার মধ্যে লাউ বেগুন করলাম ধুন্দল চাল কুমড়া শাক লাল শাক কলমি শাক পুঁইশাক মোলা শাক ইত্যাদি। পাশাপাশি চর রাজীবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক আল জুনায়েদ জানান উপজেলায় ২০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আগাম শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে । এবং আগাম সবজির চাষ
করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে চর রাজিব পুর উপজেলার কৃষকরা।

Ads