অতিরিক্ত বালু উত্তোলন: ডালিয়ায় ঝুঁকিতে তুহিন বাঁধ

আবু মোতালেব হোসেন, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
অতিরিক্ত বালু উত্তোলন: ডালিয়ায় ঝুঁকিতে তুহিন বাঁধ

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা ব্যারেজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সিল্টট্রাপ’ থেকে ইজারার শর্ত ভেঙে অতিরিক্ত বালু ও মাটি অপসারণের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বালু তোলায় সিল্টট্রাপসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে বিপজ্জনক ও গভীর খাদ। এর ফলে তিস্তাপাড়ের ভাঙনপ্রবণ বাইশপুকুর মৌজা এবং নির্মাণাধীন ‘তুহিন বাঁধ’ বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে।

​অভিযোগের প্রতিকার ও তদন্ত চেয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় শতাধিক বাসিন্দা।

​দিনের বদলে রাতে পরিবহন, মানা হয়নি নিয়ম ​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সিল্টট্রাপের খননকৃত ১১ লাখ সেফটি পলিযুক্ত বালু ও মাটি প্রকাশ্যে নিলামের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকায় ইজারা নেন ডালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও তিস্তা কলেজের প্রদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন। গত ২১ মে তৎকালীন নিলাম কমিটির সভাপতি ও ইউএনও মো. ইমরানুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে এ ইজারা দেওয়া হয়।

​ইজারার চুক্তি অনুযায়ী, শুধু দিনের বেলায় ট্রলিতে করে বালু ঢেকে পরিবহন করার নিয়ম ছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ইজারাদার শর্ত লঙ্ঘন করে দিন-রাত সমানতালে বড় ড্রাম ট্রাকে করে বালু ও মাটি সরিয়ে নিয়েছেন।অতিরিক্ত বালু, মাটি সরাতে গিয়ে এই কৃত্রিম গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি বালু-মাটি উত্তোলন করা হয়েছে।
​
​ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সিল্টট্রাপটি শুষ্ক মৌসুমে সেচ ক্যানেলে পানি প্রবেশের আগে বালু ও পলি পৃথকীকরণে ব্যবহৃত হয়। এটি তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের একটি অন্যতম সংবেদনশীল অংশ।
​
অভিযোগ উঠেছে এমন এক সময়ে, যখন পাউবো বাইশপুকুর এলাকায় তিস্তার ডান তীর রক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক কাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বর্ষায় তিস্তায় পানি বাড়লে এই গভীর খাদে প্রবল ঘূর্ণিস্রোতের সৃষ্টি হবে।

এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে বাইশপুকুর মৌজার তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে ভাঙনের মুখে পড়তে পারে নির্মাণাধীন তুহিন বাঁধটি। উল্লেখ্য, সরকারি নদী ও বালুমহাল আইন অনুযায়ী, বাঁধ ও ব্যারেজসংলগ্ন এলাকা বা যেখান থেকে বালু তুললে ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়, সেখানে মাটি ও বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

​এলাকাবাসীর মতে, প্রশাসনিক কারিগরি পরিমাপ ছাড়া অতিরিক্ত বালু তোলার প্রকৃত পরিমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই শুধু খাদ ভরাট করার মৌখিক নির্দেশ না দিয়ে পুরো বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
​
​ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তারা ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সৃষ্ট খাদটি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভরাট করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইজারাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
​
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নিলাম কমিটির সভাপতি মো. ইমরানুজ্জামান এলাকাবাসীর অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ডালিয়া পাউবোর সিল্টট্রাপের বালু-মাটি ক্রয়কারী ইজারাদার মো. জয়নাল আবেদীন যদি নিলামের শর্ত ভঙ্গ করে থাকেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ads