নির্বাচনে ভরাডুবির পর ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নতুন সুর

জিনিউজবিডি২৪ ডেস্ক ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
নির্বাচনে ভরাডুবির পর ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নতুন সুর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবির পর দীর্ঘ নয় মাস ধরে চলা ইরান সংঘাত ও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে নতুন সুর শোনা গেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গলায়। ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘ব্যাপক অগ্রগতি’ অর্জন করেছে এবং তেহরান নিজেই একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী বলে দাবি করেছেন তিনি। খবর আলজাজিরার।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমরা এখন তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং তারা একটি চুক্তিতে উপনীত হতে চায়। আলোচনার সুনির্দিষ্ট বিবরণ না দিয়ে তিনি যোগ করেন, আমরা ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়েছি।

এদিকে চলমান উত্তেজনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করে ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানের ওপর ওয়াশিংটন ‘সামরিক ইতিহাসের সর্ববৃহৎ নৌ-অবরোধ’ আরোপ করে রেখেছিল। পরিস্থিতিকে ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে ট্রাম্প বলেন, সেখানে আমেরিকানরা সরাসরি যুদ্ধ করছে না। গত সাত মাসে সংঘাতজনিত ঘটনায় কোনো মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হননি।

অবশ্য ইরানের সামরিক সরঞ্জামের বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর ক্ষুদ্রমাত্রার হামলার বিষয়টি স্বীকার করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, তারা নতুন একটি বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, যা আমরা মাত্র ১৫ মিনিট বা হয়তো ৫ মিনিটের মধ্যে ধ্বংস করে দিয়েছি। এর পাশাপাশি ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশটি বর্তমানে ৩০০ শতাংশের মতো রেকর্ড মূল্যস্ফীতির মুখে রয়েছে।

অন্যদিকে, নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউস প্রশাসনে আরও বড় রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। সিবিএস নিউজের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানের জন্য ধারণ করা এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক রস ডাউথাট ক্যাবিনেট থেকে কাউকে বরখাস্ত করা হবে কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, হ্যাঁ, আমি তা ভাবছি। আমি আমার ক্যাবিনেটকে ভালোবাসি এবং তারা ভালো কাজ করছে। তবে হয়তো আমি আরও কিছু পরিবর্তন আনব, যদিও কার কার নাম রয়েছে তা এই মুহূর্তে উল্লেখ করতে চাই না।

সাক্ষাৎকার প্রকাশের দিনই ট্রাম্প তার চিফ অফ স্টাফ সুজি ওয়াইলসকে সরিয়ে কট্টরপন্থী অনুগত স্টিফেন মিলারকে নতুন চিফ অফ স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেন। মিলার পূর্বে ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টা হিসেবে তার অভিবাসন নীতি প্রণয়নে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, ওয়াইলসের বিদায় ‘নির্বাচনের ফলের কারণে হয়নি, এটি স্রেফ সময়ের প্রয়োজনে নেওয়া সিদ্ধান্ত।’ নতুন চিফ অফ স্টাফ মিলারের প্রশংসা করে ট্রাম্প তাকে একজন ‘মহান যোদ্ধা’ ও ‘অত্যন্ত অনুগত’ বলে অভিহিত করেন।

ইরান যুদ্ধের কারণে নির্বাচনি ক্ষতির মুখে পড়া প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের ওপর তার আস্থা বজায় রয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, অবশ্যই রয়েছে। দেখুন, আমরা দুটি যুদ্ধে জয় লাভ করেছি।

Ads