ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় নিহত বেড়ে ৩৩

জিনিউজবিডি২৪ ডেস্ক ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় নিহত বেড়ে ৩৩

ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৯ জন। হতাহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন বলে দাবি করেছে হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হতাহতের এই সংখ্যা প্রাথমিক, চূড়ান্ত হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

এদিকে সাদার কিতাফ ও আল-বুকা জেলায় যোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপনায় সৌদি আরবের ৯টি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।

তাইজ প্রদেশের আল-মিসরাখ জেলার আল-মাতালি গ্রামেও সৌদি বিমান হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের মধ্যে একজন কিশোরী ও একজন বৃদ্ধও রয়েছেন।

ইয়েমেনের জাতীয় প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেছেন, সৌদি শাসকগোষ্ঠী বাজার ও গ্রামাঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, গতকাল তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ জেলার আল-হাদারা বাজারে সৌদি বাহিনী অত্যন্ত নৃশংস হামলা চালিয়েছে। এতে ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন।

আবদুস সালাম অভিযোগ করেন, সৌদি বাহিনী বানি হুশাইশ জেলায় হামলার পাশাপাশি আহতদের উদ্ধারে যাওয়া চিকিৎসাকর্মীদেরও লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং উদ্ধারকাজে বাধা দিয়েছে।

ইসরায়েলি স্টাইলে হামলা

এদিকে, ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত বলেছেন, নারী ও শিশুদের হত্যাকারীদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করছেন তাঁরা। ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য সৌদি শাসকগোষ্ঠীকে শাস্তি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

আল-মাশাত আরও বলেন, সৌদি শাসকগোষ্ঠী বাজার ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ বাড়িঘরে হামলা চালাচ্ছে, ঠিক যেভাবে ইসরায়েল হামলা চালায়।

ইয়েমেনে সৌদি সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে নিহত ও আহতের মোট সংখ্যা বেড়ে ৯৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৩০৬ জন নিহত এবং ৬৭৫ জন আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি আরবের এসব হামলার পরিণতি এখনো বেসামরিক নাগরিকদেরই ভোগ করতে হচ্ছে।

Ads