৭ ই নভেম্বর ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বর্তমান প্রজন্মের জন্য কেন প্রাসঙ্গিক

জিনিউজ ডেস্ক ২৪
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
৭ ই নভেম্বর ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বর্তমান প্রজন্মের জন্য কেন প্রাসঙ্গিক

॥ ওহিদুজ্জামান রানা ॥ ইতিহাস কেবল মানুষের কীর্তিগাথা নয়; ইতিহাস একটি জাতির সংগ্রাম, সাফল্য, অর্জন ও ব্যর্থতাসহ ঐ জাতির সামাজিক ও রাজনৈতিক সমীক্ষা।

​৭ নভেম্বর ১৯৭৫
শহীদ রাষ্ট্রপতি, জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানের জীবনের তেমনই একটি অধ্যায়—সদ্য স্বাধীন হওয়া একটি দেশ, মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় লাখ লাখ মানুষের আত্মহুতি ও মা-বোনদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ঝাপসা হতে না হতেই, পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইলের এই নবজাতক বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি আবার কেন রক্তস্নাত হলো?

​কেন ও কী কারণে গণতান্ত্রিক স্বাধীন দেশটি অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী প্রশাসনিক কাঠামোর দিকে হাঁটতে শুরু করল?

কেন সরকারপ্রধানকে সপরিবারে জীবন দিতে হলো?
যে প্রশ্নের মীমাংসা আজও এ প্রজন্মকে ভাবায়।

​কোন পরিস্থিতিতে মেজর জিয়াকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হলো?
​
আজ সময় এসেছে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে শহীদ জিয়ার অবদান মূল্যায়ন করে আগামী প্রজন্মকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, জাতীয় সংহতি এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে অনুধাবন করানোর। এটি এখন সময়ের দাবি।

​গভীর ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশের সামনে তখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। তীব্র খাদ্যসংকট, দুর্ভিক্ষ, চরম দুর্নীতির অভিযোগ, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং নানামুখী রাজনৈতিক সংঘাত ও রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত এবং কূটনৈতিক অপরিপক্কতা সাধারণ মানুষের জনজীবনকে করে তুলেছিল বিপর্যস্ত। আর এই সার্বিক অস্থিতিশীলতার চূড়ান্ত পরিণতিতে ১৯৭৫ সালে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।

অনেক উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণ করা হয়, সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে মাত্র এক-দুটি রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র চালু রাখা হয়। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ে, যা পরবর্তী ঘটনাব প্রবাহের সাথে মিলে দেশকে এক গভীর ও জটিল রাজনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দেয়।

​রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সেই সময়ের সিদ্ধান্তহীনতা, দূরদর্শিতার অভাব এবং ব্যাপক দুর্নীতির কারণে জনমনে চরম হতাশা তৈরি হয়। আর এই সুযোগেই রাষ্ট্রব্যবস্থার অভ্যন্তরে সেনাবাহিনীর একটি বিপদগামী ও উচ্চাভিলাষী দল মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

সেই বিপদগামী সেনাসদস্যদের একটি অংশ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বর্বরোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হয়। তারা নির্মমভাবে হত্যা করে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে।

​হত্যাকাণ্ডের ঠিক পরপরই আওয়ামী লীগেরই একটি অংশ খন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে ক্ষমতা দখল করে এবং নিজেদের ক্ষমতার মসনদে অধিষ্ঠিত করে। খন্দকার মোশতাক ও সেই সব সেনা কর্মকর্তার ক্ষমতাও নানা রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল শাফাত জামিলের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি দল পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটায়। এর ফলে মাত্র ৮৩ দিন ক্ষমতায় থাকার পর ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর মোশতাক সরকারের পতন ঘটে এবং তাকে বন্দি করা হয়।

​৩ নভেম্বরের সামরিক অভ্যুত্থানে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান গৃহবন্দি হন। একজন সেনা কর্মকর্তার দেশপ্রেম ও চরম পেশাদারিত্ব ৭৫-এর ১৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের পর থেকে জেনারেল জিয়াকে কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হতে দেয়নি। এরই মধ্যে কারাগারে নিহত হন জাতীয় চার নেতা। নিহত হন অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে ক্ষমতা দখল করা আর এক সেনাকর্মকর্তা খালেদ মোশাররফ।

এত তারাতারি ঘটনাগুলো ঘটেছিল যা পুরো জাতিকে আবার দিশাহারা করে দিয়েছিল। সেই মুহূর্তে সিপাহী-জনতা জাতির সংকটের কাণ্ডারি, স্বাধীনতার ঘোষক, রণাঙ্গনের বীর সৈনিক, জেড ফোর্সের প্রণেতা, বীর উত্তম শহীদ জিয়াকে কারামুক্ত করে দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসেন। ক্ষমতা গ্রহণ করেই কেবল রাষ্ট্রের অবকাঠামো ও আড়াই বছরের (বা সাত মাসের) বিশৃঙ্খল রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ঠিক করতে সামরিক শাসন জারি করে বাংলাদেশের জাতীয় সংহতির এই অর্জনকে সুসংহত করেন এবং সঠিক সময়ে গণতন্ত্রের দ্বার খুলে দেন। বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের চেনা পথে হাঁটতে শুরু করে শহীদ জিয়ার হাত ধরে।

​শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উৎস, বহুদলীয় রাজনীতির প্রবক্তা এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রতীক। ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো আবার সচল করতে তিনি নানামুখী দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদী প্রকল্প গ্রহণ করলেন। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি সুসংহত করতে ডাক দিলেন সবুজ বিপ্লবের। বিকল্প আয় ও কর্মসংস্থান তৈরি করতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পাশাপাশি বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য বাস্তবমুখী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন।

​আজকের প্রজন্মকে জানতে হবে কেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও ৭ নভেম্বর জাতীয় সংহতি দিবস কতটা প্রাসঙ্গিক।
লেখক : ওহিদুজ্জামান রানা।
wara.barno26@gmail.com
(মতামত লেখকের সম্পূর্ণ নিজস্ব যা সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয় ।)

Ads