মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর নিজের অবস্থান শক্ত করছেন জেডি ভ্যান্স

জিনিউজবিডি২৪ ডেস্ক ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর নিজের অবস্থান শক্ত করছেন জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পর নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে শুরু করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে প্রচারে ট্রাম্পের নীতির চেয়ে নিজের অগ্রাধিকারগুলোকে বেশি গুরুত্ব

ইরান যুদ্ধ ও অভিবাসীদের গণ-নির্বাসনের মতো ট্রাম্পের বিতর্কিত নীতিগুলো এড়িয়ে গেছেন।

ভ্যান্সের এই কৌশল ছিল পরিকল্পিত। তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ভ্যান্স ও তার উপদেষ্টারা মনে করেন, এসব বিষয়ে তার অবস্থান ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের পরবর্তী রাজনৈতিক নেতৃত্বের কথা ভাবতে শুরু করায় ভ্যান্সের নিজস্ব অবস্থান তৈরির প্রচেষ্টাও গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ভিন্ন সুর

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেন ভ্যান্স। তিনি দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, পররাষ্ট্রনীতি পুনর্মূল্যায়ন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুন করে পর্যালোচনার প্রস্তাব দেন।

এটাই প্রথমবার, যখন প্রকাশ্যে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিলেন ভ্যান্স। তবে হোয়াইট হাউস ও তার যোগাযোগ দলের ঘনিষ্ঠ তিন ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এ বক্তব্য ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ইঙ্গিত নয়। পোস্টটি দেওয়ার আগে চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসও বিষয়টি জানতেন।

ট্রাম্প অবশ্য ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে রিপাবলিকানদের ক্ষতি হয়েছে বলে স্বীকার করলেও যুদ্ধের সিদ্ধান্তের পক্ষে রয়েছেন। বুধবার তিনি বলেন, ‘আমি কোনো কিছুই ভিন্নভাবে করতাম না।’

২০২৮ সালের নির্বাচনে নজর

ভ্যান্স এখনও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেননি। ট্রাম্পও তাকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেননি। তবে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে ভ্যান্সকে অন্যতম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাইকেল রিচি মনে করেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের অবস্থান ব্যবহার করে ভ্যান্স এখন রিপাবলিকানদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়গুলো নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।

তবে তার সামনে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ২০২৮ সালে ডেমোক্র্যাটরা ভ্যান্স বা যেকোনো রিপাবলিকান প্রার্থীকে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে প্রচার চালাতে পারে। অন্যদিকে, রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন পেতে হলে ট্রাম্পের সমর্থকদেরও পাশে রাখতে হবে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভ্যান্সের প্রচারণা চালানো কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও রিপাবলিকানরা হেরেছে। ফলে তার নির্বাচনি কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে সিনেটর টেড ক্রুজ জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ব্যর্থতাকে এবং ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস প্রার্থীদের প্রচারে ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়াকে পরাজয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নির্বাচনের শেষ দিকে প্রচার সমাবেশগুলোতে ভ্যান্স স্বাস্থ্যসেবা ও দারিদ্র্যবিমোচন কর্মসূচিতে জালিয়াতি তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়েও কথা বলেন। তবে ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির দাম এবং ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেছেন খুব কম।

সব মিলিয়ে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পর রিপাবলিকানদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নিজের নীতি ও বক্তব্য সামনে এনে ২০২৮ সালের জন্য রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরির চেষ্টা করছেন ভ্যান্স।

Ads