রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীতে হচ্ছেনা গ্রামীণ মেলা, ফিরে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

মিরাজুল ইসলাম, ভ্রাম্মমান প্রতিনিধি কুষ্টিয়া ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীতে হচ্ছেনা গ্রামীণ মেলা, ফিরে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী ঘিরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে প্রতিবছরই বসে প্রাণের মেলা। তবে দীর্ঘদিনের সেই ঐতিহ্য এবার হোঁচট খেয়েছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় এবার কুঠিবাড়িতে মেলা বসেনি। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লোকসান আর দুঃখভরা মন নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কুঠিবাড়িতে তিন দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকলেও মেলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানা গেছে।

কুঠিবাড়ির মেলায় অংশ নিতে কুষ্টিয়াসহ মাদারীপুর, শরীয়তপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক দিন আগেই হাজির হয়েছিলেন কসমেটিকস, খেলনা ও হরেকরকম পণ্যের ব্যবসায়ীরা।

গত বুধবার ৬ মে বিকেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হঠাৎ দোকান উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হলে দিশেহারা হয়ে পড়েন তাঁরা।

শরীয়তপুর থেকে আসা খেলনা ব্যবসায়ী মীর বাবুল জানান, গত ১৫ বছর ধরে তিনি এখানে ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, দুই দিন আগে এসে দোকান বসিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসন বুধবার বিকেলে এক ঘণ্টার মধ্যে সব ভেঙে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। বৃষ্টিতে ভিজে মালামাল নিয়ে এখন চলে যাচ্ছি। আমাদের একেকজনের ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।

২০ বছর ধরে আসা মাদারীপুরের আনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা গরিব মানুষ। অনেক খরচ করে এখানে এসেছি। অথচ অনুমতি নেই বলে আমাদের তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সামনের বছর থেকে আর আসব না।

স্বাধীনতার পর থেকেই ২৫ বৈশাখ ঘিরে শিলাইদহে মেলা দেখে আসছেন স্থানীয়রা। কসবা গ্রামের ষাটোর্ধ্ব মুদি ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, ঠাকুরের জন্মদিন ঘিরে আগে থেকেই আত্মীয়-স্বজনে বাড়ি ভরে যেত। এখন আর সেই জৌলুস নেই। এবার তো মেলা একেবারেই হতে দিচ্ছে না। দোকানদাররা সব চলে যাচ্ছে।
একই গ্রামের ৭২ বছর বয়সী আব্দুস সাত্তার বলেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে কোনো বছর এই মেলা বন্ধ হতে দেখিনি। কেন এবার মেলা হচ্ছে না, তা জানি না। তবে যেকোনো মূল্যে এই গ্রামীণ মেলা টিকিয়ে রাখা উচিত।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্ভিক) জাকির হোসেন বলেন , কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। তবে প্রস্তুতি সভায় সিদ্ধান্ত না হওয়ায় এবার মেলা হচ্ছে না। এর বাইরে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্থানীয় ও ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই এভাবে মেলা বন্ধ করে দেওয়ায় কুঠিবাড়ির শত বছরের লোকজ ঐতিহ্য ও উৎসবের আমেজ আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

Ads